ডিসেম্বর মাস আমাদের বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেই পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় একটি নতুন দেশ বাংলাদেশ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত হয় রক্তপিপাসু পাকিস্তানি বাহিনীর। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আমার সোনার বাংলা। স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এই বাংলাদেশের আছে নানা অর্জন “বিজয় দিবস”। বিজয়ের মাসে কী ভাবছেন তরুণরা? কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদের ভাবনা নিয়ে তুলে ধরেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মোঃ ফাহাদ হোসেন।
“তরুনরাই পারে মহান স্বাধীনতার উদ্দেশ্যগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে”
সুন্দর সুফলা চিরসবুজ আমাদের এই দেশটি সুদীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার পর স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমরা মহান স্বাধীনতার উদ্দেশ্যগুলোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার। যেখানে থাকবে না কোন দু‘র্নীতি, স্ব‘জনপ্রী‘তি,কু‘সংস্কার, কু‘শিক্ষা কিংবা মাদকের আখড়া। মানুষজন পাবে সুশিক্ষা, সুচিকিৎসা। থাকবে বাসস্থানের নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা। আমরা এমনই একটি স্বপ্নের দেশ বিনির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। যদিও তার গতি মন্থর। তার কারণ আমাদের চারপাশে গড়ে উঠেছে দুর্নী‘তিবাজদের আস্তানা। আমাদের তরুণরাই একমাত্র পারে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা নির্মাণে এই দুর্নী‘তিবাজদের উৎপাঠন করতে। কারন আজকের তরুণরাই আগামীতে দেশ পরিচালনা করবে, আমলা হবে, শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। ইতিমধ্যেই অনেক স্বপ্নবাজ তরুণ তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনাকে কাজে লাগাচ্ছে, যার সুফল আমাদের সমাজ পেতে শুরু করেছে। স্বাধীনতার পূর্বে এবং স্বাধীনতার সময় তরুণরা যেমন বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলে ছিল, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আবার তরুণরাই বিপ্লব ঘটাবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা নির্মাণে করবে।
শাহ রিজুয়ান ফাহিম,
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, নোবিপ্রবি।
“স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে কাজে লাগাতে পারলেই অর্জিত হবে আমাদের আসল বিজয়”
ডিসেম্বর মাসটা অনেক আনন্দের। প্রতিবছরের মত এইবছরও বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে নিশ্চয় এই বিজয় দিবসটি উদযাপিত হবে। এই মাসটা যেহেতু আমাদের দেশকে স্বাধীন করে আনন্দে ভাসিয়েছিল তেমনি অনেক পরিবার থেকে কেড়ে নিয়েছিল হাজারো তাজা প্রাণ। যাদের প্রাণের বিনিময়ে আজকের এই বাংলাদেশ। আজকের এই দিনে স্বরণ করছি সেইসব মহান আত্মাকে, যাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিমিয়ে আজ আমরা স্বাধীন বুকে বিচরণ করছি।নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্বের পরে দেশটি স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও কিছু আক্ষেপ থেকে যায়। ১৯৭১ সালে যে উদ্যেশ্যকে সামনে রেখে যুদ্ব করেছিল সেই কা‘ঙ্কিত মুক্তি এখনো পায়নি। রাজনৈতিক অরা‘জকতা, দূর্নী‘তি, হিং‘সা-বিদ্বেষ, খু‘ন, ধ‘র্ষণ এই সবে পরিপূর্ণ আজ আমার স্বাধীন দেশটি। অর্জন করতে ব্যর্থ আমাদের মূল লক্ষ। স্বাধীনতার মূলম‘ন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে যতদিন মূল লক্ষে কাজ করবো না,ততদিন আমাদের আসল বিজয় আসবেনা।
আব্দুল্লাহ আল নোমান
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, নোবিপ্রবি
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মশাল করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
১৬ ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল। দিনটি ক্যালেন্ডারের অন্যান্য দিনগুলোর মতো নয়, এই দিনটি মিশে আছে আছে আমাদের অন্তরাত্মার সাথে। এই দিনেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন একটি ভূখন্ড, পেয়েছি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষ‘য়ী যু‘দ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনটিতে সোহ‘রাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর সেনা সদস্যরা বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর কাছে আ‘ত্ম‘সম‘র্পন করে। এর ফলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যূদয় ঘটে। এজন্য এইদিন বাংলাদেশে বিশেষ দিন হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের সর্বত্র পালন করা হয়। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই দিনটিকে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় এবং সরকারীভাবে এ দিনটিকে ছুটি ঘোষণা করা হয়।
দেশপ্রেম ও শুভবুদ্ধিকে আশ্রয় করে আমরা প্রতিকূল ও অশুভ শক্তির বিরু‘দ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। প্রতিটি বিজয় দিবসে মু‘ক্তিযু‘দ্ধের চেতনাকে মশাল করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আর সেটা পারলেই আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা আমাদের জীবনে অর্থবহ হয়ে উঠবে।
তানভীরুল ইসলাম,
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, নোবিপ্রবি।