প্রথম ধাপের পৌরসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। দিন-রাত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। অন্যান্য পৌরসভার মত ঠিক একই চিত্র বেতাগী পৌরসভার নির্বাচনী এলাকায়।
নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় আ’লীগ সরগরম থাকলেও মাঠে দেখা নেই বিএনপি দলের নেতা কর্মীদের। এমনকি পুরো পৌর এলাকায় নেই কোন পোষ্টার ফেইসটুন কিংবা ব্যানার। বিএনপি প্রার্থীর দাবী প্রচারণায় বাধা আসছে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হচ্ছে অন্যদিকে আ’লীগ ও স্থানীয় কিছু বাসিন্দারা বলছেন বিএনপিতে দলীয় কোন্দল ও সমর্থন না থাকার কারনে তারা প্রচরনা চালাচ্ছেন না।
বেতাগী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৯ হাজার ২৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৫৪২ জন এবং মহিলা ভোটার ৪ হাজার ৭৩৫ জন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দল থেকে মনোনীত ২ জন, এছাড়াও গতকাল হাইকোর্টে রিট পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ জন এবং কাউন্সিলর পদে ২৬ জন অংশ নিচ্ছেন।
বেতাগী পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, সাবেক মেয়র ও বেতাগী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এবিএম গোলাম কবির তিনিও নৌকার প্রচারণায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন। টানা ১০ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে যে উন্নয়ন করেছে তা প্রান্তিক পর্যায়ে তার প্রচারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে রাত-দিন পরিশ্রম করছেন তিনি। ভোটারদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক আর লিফলেটও বিতরণ করেছেন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা।
শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও নিজস্ব উদ্যোগে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে বর্তমানে মেয়র পদে ৩ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদন্ধিতা লক্ষ করা যায় হবে আ’লীগের এবিএম গোলাম কবির ও বিএনপির প্রার্থী হুমায়ন কবিরের মধ্যে। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের নির্বাচন উপলক্ষে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ দলীয় নেতারা একাট্টা হয়ে নৌকার ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ইতোমধ্যে বেতাগী উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরাও আওয়ামীলীগের সমর্থন করছে বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষদের ধারনা এ বিষয়টি নির্বাচনে প্রার্থী জয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রচার প্রচারণায় বেতাগী বাসষ্ট্যান্ড,মান্নান মৃধা পৌর গেট,বন্ধু চত্বর, হাসপাতাল রোড ফায়র সার্ভিস রোড সহ ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে মেয়র পদপ্রার্থী আর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নির্বাচনী ইশতেহার সংবলিত লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। পৌরসভা জুড়ে নৌকা প্রতিকের সমর্থনে মাইকিং, পোস্টার, ব্যানার, তোরণ চোখে পড়লেও দেখা যায়নি ধানের শীষ প্রতিকের কোনো প্রচার প্রচারণা। মাঝে মধ্যে প্রচার প্রচারণা বাধাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে মিডিয়ার সামনে আসলেও মাঠে দেখা যাচ্ছে না বিএনপির প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মিদের। খোঁজ নিলে জানা যায়, নিজ দলের মধ্যে কোন্দল থাকার কারনে ও করোনা কালিন সময়ে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী কোন নেতাকর্মীকে কোন ধরনের সহযোগীতা না করার কারনে অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মী মনোনিত প্রার্থীর সাথে নেই যার ফলে প্রচার প্রচারণা পিছিয়ে রয়েছেন।
এ দিকে বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী হুমায়ন কবির বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নানা বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমাদেরকে অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। পাষ্টার লাগালে ছিরে ফেলা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবিএম গোলাম বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে হেরে যাবার ভয়ে এখন প্রচার প্রচারণা বন্ধ রেখেছে। ইতোপূর্বে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। যোগদানকৃত নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের হয়ে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এ অবস্থা দেখে বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই বিএনপি এখন মিথ্যার আশ্রয়ে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা দিশেহারা হয়ে আওয়ামী লীগের বিরু‘দ্ধে নানা ধরনের মি‘থ্যে অভি‘যোগ তুলছে।
বার্তাবাজার/এ.আর