ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনো ধরনের পূর্বশর্ত দিয়ে পরমাণু আলোচনা করতে রাজি নয়। এছাড়া বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষর হওয়া পরমাণু চুক্তি নিয়ে আর কোনো শর্ত গ্রহণ করবে না তেহরান। এমনকি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কর্মসূচি ও আঞ্চলিক কার্যক্রম নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডকে মূল চুক্তির আওতায় আনতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র । এই শর্ত দিয়ে তারা ফের পরমাণু সমঝোতায় আসতে চায়। এ নিয়ে কোনো কথা বলার সুযোগ নেই বলে জানান, রুহানি।
দেশটিতে প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর সোমবার তেহরানে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে হাসান রুহানি বলেন, আমরা কারও পূর্বশর্ত দিয়ে আলোচনায় রাজি নই। যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্লান অব অ্যাকশন-জেসিপিওএ) নিয়ে আর কোনো সমঝোতা নয়। এটি নিয়ে আর কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।
‘হয় চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সব পক্ষকে যৌথ কর্মপরিকল্পনা পুরোপুরি মানতে হবে, না হয় কেউ মানবে না। তারা যদি এটি মেনে চলে আমরাও মানব।’
৫ বিশ্বশক্তি ও জার্মানির সঙ্গে স্বাক্ষর হওয়া ইরানের পরমাণু সমঝোতা নিয়ে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এই সমঝোতার সঙ্গে পরমাণু ইস্যু যোগ করতে হবে। এ প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে হাসান রুহানি বলেন, এটি অসম্ভব।
তারা এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছে। সব কিছু আলোচনা শেষেই যৌথ কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষর হয়েছে। এখানে ইরানের সঙ্গে পক্ষভুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি।’
রুহানি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে জেসিপিওএর সঙ্গে যোগ করতে গত কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘেও তারা এ বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতাকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি সফল হতে পারেননি। ইরান সরকার সর্বশক্তি দিয়ে পরমাণু সমঝোতাকে টিকিয়ে রেখেছে।
ইরানের পরমাণুবিজ্ঞানী ফাখরিজাদেহকে হত্যার নিন্দা প্রকাশ করে হাসান রুহানি বলেন, ফাখরিজাদেহর রক্তের বদলা নেয়াকে নিজের ন্যায্য অধিকার বলে মনে করে ইরান এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত স্থানে প্রতিশোধ নেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
সবাই যদি পুরোপুরি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে তবে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি বলে, জানান তিনি। খবর আলজাজিরার।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম