৭ লাখ টাকায় ধর্ষণের মামলা তুলে নিতে চাপ, ভুক্তভোগীর বিষপান

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে প্রায় তিন মাস আগে দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে (হিন্দু) ধর্ষণের ঘটনায় হওয়া মামলা তুলে নিতে ৭ লাখ টাকায় আসামী পক্ষ থেকে সমঝোতার চাপ দেয়ায় ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

গত রবিবার রাতে ওই স্কুল ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে ওই স্কুল ছাত্রীকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা ধর্ষণে অভিযুক্ত আইনজীবী এইচ এম হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে সমঝোতার প্রস্তাবদাতা আটোয়ারী উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি মনোজ রায় হিরু ও আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রতন বিলাস বর্মন বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা।

মামলার এজহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মামলা হওয়ার পর থেকেই ওই আইনজীবী হাবিব জেলে থাকলেও পরোক্ষভাবে মনোজ ও রতন বিলাস সহ বিভিন্ন প্রভাবশালীর মাধ্যমে সমঝোতার চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। সর্বশেষ ৭ লাখ টাকায় মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকে তারা। এমনকি গোপনে সমঝোতার কাগজপত্রও তৈরি করে ফেলে তারা। এই খবর শুনে গত রবিবার রাতে ওই স্কুল ছাত্রী বাড়িতে থাকা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

মামলা করার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকিসহ চাপ প্রয়োগ করায় বিপাকে পড়েছেন
অসহায় পরিবারটি। যারা এক সময় বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিল তারাই এখন সমঝোতার চাপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পরিবারটির।

মামলার এজহার সূত্রে আরো জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে পঞ্চগড় আদালতের আইনজীবী এইচ এম হাবিবুর রহমান হাবিব ওই স্কুল ছাত্রীকে আটোয়ারী উপজেলা সদরের কালিকাপুর এলাকার এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই স্কুল ছাত্রীর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে আপত্তিকর অবস্থায় ওই আইনজীবীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই দিনই ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা ওই আইনজীবী ও তার দুই সহযোগিকে আসামী করে আটোয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালতের মাধ্যমে ওই আইনজীবীকে জেলহাজতে পাঠানো হলেও দুই সহযোগী এখনো পলাতক রয়েছে।

ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা বলেন, আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রতন বিলাস বর্মন,মনোজ রায় হিরুসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরেই হাবিবের পক্ষ থেকে আমাদের বিষয়টি সমঝোতার চাপ দিচ্ছিলেন। তারা ৭ লাখ টাকা দিতে চেয়েছে। এমনকি তারা সমঝোতার সব কাগজপত্রও তৈরি করে ফেলেছিল। এই খবর শুনে আমার মেয়ে বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাদের অত্যাচারে আমরা বাড়িতে থাকতে পারছি না। আমার পরিবারের সবাই মানুসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এই যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না। তাদের জন্যই আমার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, ওই স্কুল ছাত্রী কীটনাশক পান
করেছিল। হাসপাতালের আনার পর তার বিষ বের করা হয়েছে। এখন তার অবস্থা স্থিতিশীল। ৭২ ঘন্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।
আমরা তাকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।

আটোয়ারী থানার ওসি ইজার উদ্দীন বলেন, ওই স্কুল ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। আইনজীবী হাবিবকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে মামলার সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা। বর্তমানে ওই আইনজীবী জেলহাজতে রয়েছেন। ওই স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনার দায়ে মামলা করেছেন।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর