“আজ ১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।” ১৯৭১ এর ১৪ ডিসেম্বরের নির্মম হ’ত্যাকা’ণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পালিত হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলার পর ১৪ ডিসেম্বর বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। বিজয়ের প্রাক্কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের বাছাই করে এক জায়গায় এনে ঠান্ডা মাথায় খু’ন করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে অধ্যাপক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিল্পী, প্রকৌশলী, লেখকসহ পূর্ব পাকিস্তানের ২০০ বুদ্ধিজীবীকে ঢাকায় একত্রিত করা হয়েছিল। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগ ও শহরের বিভিন্ন স্থানের নির্যাতন সেলে চোখ বেঁধে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের রায়েরবাজার ও মিরপুরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছে ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ জন অন্যান্য (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী ও প্রকৌশলী)। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিলেন ২৩ জন শিক্ষক। তারা হলেন- ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (দর্শন), ড. মুনীর চৌধুরী (বাংলা সাহিত্য), ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (বাংলা সাহিত্য), ড. আনোয়ার পাশা (বাংলা সাহিত্য), ড. আবুল খায়ের (ইতিহাস), ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা (ইংরেজি সাহিত্য), ড. সিরাজুল হক খান (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট), ড. এ এন এম ফাইজুল মাহী (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট), হুমায়ূন কবীর (ইংরেজি সাহিত্য), রাশিদুল হাসান (ইংরেজি সাহিত্য), সাজিদুল হাসান (পদার্থবিদ্যা), ফজলুর রহমান খান (মৃত্তিকা বিজ্ঞান), এন এম মনিরুজ্জামান (পরিসংখ্যান), এ মুকতাদির (ভূ-বিদ্যা), শরাফত আলী (গণিত), এ আর কে খাদেম (পদার্থবিদ্যা), অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য (ফলিত পদার্থবিদ্যা), এম এ সাদেক (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট), এম সাদত আলী (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট), সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য (ইতিহাস), গিয়াসউদ্দিন আহমদ (ইতিহাস) ও এম মর্তুজা (চিকিৎসক)।
বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এদেশকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারা জানত, বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে এই বুদ্ধিজীবীরা। এজন্য ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে টার্গেট করা হয়। এ পরিকল্পনার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করা হয় ১৪ ডিসেম্বর। তারা এদেশেরই কিছু মানুষকে ব্যবহার করে এ হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে। দেশকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এটা করা হয়েছে।