শীত নিবারণে ভিড় ফুটপাতে

করোনা ভাইরাসকে ঘিরে সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। করোনা দ্বিতীয় ঢেউকে সামলানোর জন্য জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়তই বলা হচ্ছে সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে উপেক্ষা করে শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের রাস্তা ঘাটে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ছোট-বড় শপিং মল থেকে সড়কের পাশের ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের নেই কমতি। শীত নিবারণ করার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর ও গ্রামের নিম্নবিত্ত -মধ্যবিত্তদের আস্থা ফুটপাতের কাপড়ে দোকানগুলো।

সরেজিমেন ঘুরে দেখা যায়, কাপড়ের বেচাকেনা চলছে ধুম। শহরে ছোট-বড় শপিং মলের কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতের গরম কাপড়ের দাম অনেকটা চড়া। তাই সাধারণ মানুষ শীতকে কেন্দ্র করে কম দামী কাপড়ের দোকানের দিকে দেখা যায় ক্রেতাদের বেশি আনাগোনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৯ উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে শীতের পোষাক আমদানি ও বেচাকেনা ভালোভাবেই শুরু হয়েছে। অন্যান্য পণ্যেও মত গরম কাপড়েরর দামটাও বেশ চড়া। তাই নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত শ্রেণী পেশার মানুষদের হাতের নাগালেই বাইরে চলে গেছেন নতুন গরম কাপড়। তাই শীত নিবারণে জন্য কম মূল্যের গরম কাপড় কেনার জন্য ছুটছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। ১০ টাকা মূল্য থেকে শুরু ৪০০ টাকা পর্যন্ত কাপড়ের মূল্যোর পসরা সাজিয়ে ভ্যান গাড়ি নিয়ে বসেছেন ফুটপাতে।

শহরের বিভিন্ন এলাকাগুলোতে অস্থায়ীভাবে ভ্যান দিয়ে গরম কাপড় বিক্রি করছে অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা। সবাই মনের আনন্দেই নিজের জন্য ও নিজের পরিবারের জন্য পছন্দের কাপড়গুলো ক্রয় করছেন। ফুটপাতের এই অস্থায়ী দোকানগুলো সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, কোর্ট, প্যান্ট, কান টুপি, হাতের মোজাসহ বিভিন্ন প্রকার শীত বস্ত্র বিক্রি করছেন।

তাই শহরের ছোট-বড় শপিং মলগুলো থেকে ফুটপাতের কাপড় বেচাকেনা হচ্ছে বেশি। ফুটপাতের এই অস্থায়ী ব্যবসা করে বিক্রেতারা যেমন সংচ্ছলতা আনছে তেমনরি ক্রেতারা কাপড় ক্রয়ে হচ্ছে অনেকটাই লাভবান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল রোড, টেংকের পাড়ের সামনে সহ বিভিন্ন স্থানে পুরনো ও নতুন কাপড়ের পসরা বসেছে। এসব কাপড় ব্যবসায়ীরা ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে আমদানী করে বিক্রি করছে। বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনে ফুটপাতে অন্তত ২০টি শীতের পোশাক দোকান।

রমজান আলী ও জাকির মিয়া দুই ব্যবসায়ী জানান, আমরা ঢাকার বিভিন্ন ছোট-বড় গার্মেন্ট থেকে এসব গরম কাপ নিয়ে আসি। বস্তায় লোড করা থাকে। গত বছরের তুলনায় গরম কাপড়ের বস্তা প্রতি তিনশত টাকা বেশিই নিচ্ছে। ফলে গেল বছর যে কাপটি বিক্রি করেছি ১৫০ টাকায় সেটি এখন বিক্রি করছি ১৮০ টাকায়।

অন্যদিকে গরম কাপড়েরর বেঁচাবিক্রি কেমন বিষয়টি জানতে চাইলে জীবন বলেন, আইজ্জকা (মঙ্গলবার) হঠাৎ করে শীত পইরা গেছে। এইজন্য আইজকা (আজকে) কাস্টোমার (ক্রেতা) বেশি। সকাল থেইক্কা দুপুর পর্যন্ত ৬ হাজার টাকার কাপ বিক্রি কইরা লাইছি।

আরেক বিক্রেতা বিপুল মিয়া। সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামে বাড়ি। শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনে বাশেঁর মধ্যে গরম কাপড় টাঙ্গিয়ে বিক্রি করছেন তিনি। বিপুল বলেন, ফুটপাতের কাপড়ে অনেক চাহিদা। শুধু গরিব না বড়লোকরাও ফুটপাত থেকে এখন কাপড় কিনে। অগ্রহায়ণের শুরুতে ঢাকা থেকে প্রথম চালানে ৭০ হাজার টাকার কাপড় কিনে এনেছিলাম। তা বিক্রি করে এখন আবারো কাপড় ক্রয় করে এনেছি।

তিনি আরো বলেন, সব কাপড় খারাপ হয় না। বস্তা ভর্তি কাপড়ে ভাল মানেরও পোষাক পাওয়া যায়। সেই কাপড়গুলো আমরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করে থাকি। চোখে পড়েছে কয়েক জোড়া ছোট ছোট পায়ের মুজা ক্রয় করছেন শহরের পাইকপাড়ার বাসিন্দা তৌহিদ আলম। পেশায় তিনি একজন সরকারী চাকুরীজীবি। তিনি জানান, কাপড়ে কাপড়ে ব্যবধান রয়েছে। তবে এখনকার সময়ে ফুটপাতেও ভাল কাপড় পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, ফুটপাতের দোকান থেকে বাচ্চার জন্য মুজা নিয়েছি। যে মোজা কোনো একটি শপিং মল থেকে ক্রয় করতে গেলে ৭০-৮০ টাকা লাগবে। সেটি এখান থেকে ৩০ টাকায় ক্রয় করতে পেরেছি।

সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, ফুটপাত থেকে গত বছরের শীতেরও কাপড় ক্রয় করেছি। তার অভিজ্ঞতাটা ছিলো খুবই ভাল। তাই এই বছর বাচ্চাদের জন্য আবারো ক্রয় করতে এসেছি।

অন্যদিকে শীতের শুরুতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া গরিবদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন একটি সামাজিক সংগঠন। সংগঠনের উপদেষ্টা বিশ্বজিৎ পালন বলেন, শীতকে কেন্দ্র করে আমরা ব্যাতিক্রম ভাবে কম্বল বিতরণ করেছি। আমরা ৫০ জন গৃহকর্মীকে কম্বল বিতরণ করেছি। শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর