মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক

‘মরণ ফাঁদ’ খ্যাত কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কটি। দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এই সড়ক নিয়ে বহুবার সংবাদ পরিবেশ করা হলেও পরিবর্তনের কোন ছোঁয়া লাগেনি। না মিলেছে কোন সমাধান। ধীরগতির মেরামত কাজ করছে সওজ আর ভুগছেন সাধারণ মানুষ। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে পুকুরের মতো রুপ নেয় সড়কের মধ্যবর্তী খাদ গুলো।

পাশেই গোমতী নদীর খনন কাজ চলমান থাকায়, মাটি ও বালু পরিবহনের জন্য ব্যবহারকৃত ভারী যানবহন নিয়ম না মেনেই অনায়াসে চলাচল করছে। যার ফলে শীত মৌসুমে তীব্র বায়ু দূষণের সৃষ্টি হয়। বছরের ১২ মাসেই লেগে থাকে সমস্যার ঝুড়ি। একগাদা অভিযোগ আর ক্লান্তির যাত্রা করেন কুমিল্লা-সিলেট রুটে যাতায়াতকারী প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ।

বৃষ্টি আর ভারী যাহনবাহনের চাপে প্রতিনিয়িত বাড়ছে দূর্ভোগ ও দূর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলা হাজার হাজার যাত্রী ও মাল পরিবহনকারী ট্রাক, বাস, মাইক্রো, কাভার্ড ভ্যান, নসিমন, সিএনজি, রিক্সা, আভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার ভারী যানবাহনসহ সকল ধরনের যানবাহন প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

 

ছবি-বার্তাবাজার

যাত্রীদের পাশাপাশি গাড়ি চালকদের রয়েছে নানান ধরনের অভিযোগ। কোথাও এক্সেল ভেঙ্গে, কোথাও আবার চাকা পাংচার হয়ে সড়কের মাঝখানে পড়ে থাকা, এমনকি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে কিংবা খাদে পরে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এই সড়কে এ যেন নিত্যদিনের ঘটনা।

তার উপরে সড়ক গিয়ে চরম বেহালদশা সৃষ্টি করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গুলো। সংস্কারের কাজ চলছে বছরের পর বছর। তবুও পরিবর্তন ধোঁয়াশার ভেতরেই রয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম রিয়াজ নামের একজন জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গুলো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে সড়ক সংস্কার কাজ করে। তাই বছর ঘুরে আবার তাদের পুরাতন চিত্র দেখতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪২ টি কি.মি. সড়কের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ অংশ কুমিল্লার দেবিদ্বার ও বুড়িচং উপজেলা। এখনকার প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দার যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এ সড়কটি। দেবিদ্বার উপজেলার উজানিসার পর্যন্ত অংশজুড়ে ভাঙাচোরা, ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হয়ে আছে। দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এতে সড়কটিতে প্রায়শই তৈরি হয় যানজট। কোম্পানীগঞ্জ, কংশনগর, ভাড়াল্লা, কালিকাপুর বাজারে ঘন্টা পর ঘন্টা লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। কিছুদিন আগে মেরামত করা এই সড়ক এখন বিভিন্ন অংশের পিচ-খোয়া উঠে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দরা।

 

ছবি-বার্তাবাজার

সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ক্যান্টনমেন্ট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালামুড়া ব্রিজ পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে ‘হাসান টেকনো বিল্ডার্স’ ও ‘মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজ’ ২৩ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যায় হিসেবে কাজ পান। দরপত্রে কাজটি সম্পন্ন করায় ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর শেষ হয় । কিন্তু এখানো কংশনগর বাজার ও দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ বাজার এলাকায় ঢালাইকৃত অংশে ওঠে যাওয়া অন্য দরপত্রের মাধ্যমে আবার পূনঃমেরামতের কাজ করছেন সওজ।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড.মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, সড়কটি অবস্থা খুবই নাজুক,এর আগেই সড়কে সংস্কার কাজ হয়েছে।কিন্তু অতিমাত্রা ভারী যানবাহন চলাচল করা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সড়কটি। সড়কটি আয়ু শেষ, আমরা ভারত সরকার কথাবার্তা চলতেছে,ওরা বরাদ্দ দেয় না,তাই দেরি হচ্ছে। যদি আগামী বছর একনের অর্থ পেলে আমরা কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শুরুতে পারবো। কংশনগর বাজার এলাকার ঢালাই করা অংশের একাংশ চালু না হওয়ার বিষয়টি জানা চাইলে তিনি বলেন অন্য টেন্ডারের মধ্যেমে আমার মেরামতের চেষ্টা করছি।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সড়কটি আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ফোর-লেনে উন্নীত হওয়ার এনেক প্রস্তাব পাঠানো হবে। সড়কের বর্ধিতকরণের কাজ শুরু সজকের নিয়মিত মির্টি করছে। আগামী একনের বৈঠকে বাজেট-পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে
পারে সড়কটি।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর