গবেষণায় বিশেষ অনুদান পাচ্ছেন বশেফমুবিপ্রবির ড. মাহমুদুল

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিজ্ঞানী ড. মাহমুদুল হাছান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদানকারী ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচি’ খাত থেকে বিশেষ গবেষণা অনুদান পাচ্ছেন।

গত ৮ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, মেডিক্যাল সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্স, ফিজিক্যাল সায়েন্স ও ইন্টার-ডিসিপ্লিনারি গ্রুপসহ ৬টি গ্রুপে গবেষণা অনুদান পাচ্ছেন ৫৭৯ জন প্রকল্প পরিচালক বিজ্ঞানী ও গবেষক। উল্লিখিত বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে জীববিজ্ঞান ক্যাটাগরিতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিজ্ঞানী ড. মাহমুদুল হাছান (প্রকল্প পরিচালক) এবং একই বিভাগের প্রভাষক মো. সাইফুল ইসলাম (গবেষণা সহযোগী) নির্বাচিত হয়েছেন।

তাদের গবেষণা প্রকল্পটির বিষয়বস্তু হলো- ‘ক্রিপ্টিক বায়োডাইভার্সিটি অফ ফ্রেশ ওয়াটার স্পেসিস ইন বাংলাদেশ।’

এ বিষয়ে বশেফমুবিপ্রবির ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুস ছাত্তার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে বেশ তৎপর আর গবেষণায় উৎসাহিত করতে অনেক অনুদান প্রদান করছে। আমরাও গবেষণাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। এইসব গবেষণালব্ধ ফলাফলের দ্বারা আমাদের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি বলেন, ড. হাছান একজন তরুণ বিজ্ঞানী। অল্প বয়সেই তিনি তিনটি ব্যাঙের বৈজ্ঞানিক নামকরণ করেছে। আমি আশা করছি তার গবেষণার মাধ্যমে আমাদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের দরবারে মানসম্মত গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পাবে।

এ দিকে শুরু থেকেই বশেফমুবিপ্রবিকে শতভাগ গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সদ্য নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. হাছান ও তার গবেষণাদলের এমন সাফল্যে আমরা আনন্দিত। আমি সবসময়ই আমাদের সকল শিক্ষকদের গবেষণা করার জন্য উৎসাহিত করি। তাদের গবেষণা করার জন্য দেশ-বিদেশের গবেষণা অনুদান, ফেলোশিপ ইত্যাদির জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও গবেষণায় নানা পুরস্কার-অনুদান পেয়ে দেশে-বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়াবে এটা আমার বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, ড. মাহমুদুল হাছান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে ফিশারিজে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি মনোবুকাগাকুশু বৃত্তি নিয়ে জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট এবং পোষ্ট ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে একই বিশ্ববিদ্যালয়েই অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি জাপানের নাগাহামা ইনস্টিটিউট অফ বায়োসায়েন্স এন্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. আটসুশি কোরাবায়েশির সাথে প্রাণির মলিকুলার বায়োলজি নিয়ে যৌথ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ড. কোরাবায়েশি গবেষণার কাজে বশেফমুবিপ্রবিতে সফরে আসবেন।

বার্তাবাজার/প্রিতম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর