মৃত ১৯ মুসলিমের দেহ পোড়ানো হচ্ছে শ্রীলঙ্কায়

শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ১০ শতাংশই মুসলিম। ২০১৯ সালের এপ্রিলে কলম্বোর একাধিক চার্চে সন্ত্রাসী হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ওই ঘটনার পর থেকেই দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলামভীতি ভর করেছে ।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস মহামারির জন্যে স্থানীয় কিছু গণমাধ্যম মুসলিমদের দায়ী করে প্রচারণা চালাচ্ছে । আর মুসলিমবিদ্বেষী হয়ে উঠেছে লঙ্কান সরকারের কর্মকাণ্ডগুলো। দেশটি করোনায় মৃত সবার দেহ মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি ও অনুভূতির তোয়াক্কা না করেই পোড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গত অক্টোবর থেকে শ্রীলঙ্কায় হু হু করে বাড়ছে । ইতোমধ্যেই সেখানে অন্তত ২৯ হাজার আক্রান্ত হয়েছেন, আর মারা গেছেন ১৪২ জন।

দেশটিতে করোনায় মৃতদের মধ্যে ১৯ মুসলিমের দেহ নিতে আবেদন করেনি তাদের পরিবারগুলো। রাজধানী কলম্বোর একটি মর্গে রয়েছে মরদেহগুলো। এখন কোয়ারেন্টাইন নীতির কথা বলে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন লঙ্কান অ্যাটর্নি জেনারেল দাপ্পুলা ডি লিভেরা।

পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই গত বুধবার পাঁচটি মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাকিগুলোও পোড়ানো হবে।

তবে সরকারের এ নীতি চ্যালেঞ্জ করেছেন স্থানীয় মুসলিমরা। লঙ্কান সুপ্রিম কোর্টে মরদেহ পোড়ানো আটকানোর জন্য অন্তত ১২টি আবেদন করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও একাধিক নাগরিক অধিকার সংস্থা।

তবে কোনও কারণ উল্লেখ না করেই সেই আবেদনগুলো খারিজ করে দেয় শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ আদালত।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা সহায়ক রিহাব মাহামুর আল জাজিরাকে বলেন, মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে মরদেহ পোড়ানো খুবই অন্যায়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, করোনায় আক্রান্তদের মরদেহ মাটিচাপা বা দাহ করা যেতে পারে। শ্রীলঙ্কা মুসলিম সম্প্রদায়কে আরও কোণঠাসা করতে এই মহামারিকে ব্যবহার করছে।

শ্রীলঙ্কান মুসলিম কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হিলমি আহামেদ বলেন, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, অ্যাটর্নি জেনারেল এই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মুসলিমদের সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবার কোয়ারেন্টাইনে থাকে এবং ওই অবস্থায় মরদেহ শনাক্ত করারও সুযোগ থাকে না। কোনও ময়নাতদন্ত হয় না। এর কারণে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

গতমাসে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) শ্রীলঙ্কাকে মুসলিমদের মরদেহ কবর দিতে পরিবারগুলোকে অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে সেই আহ্বানে শ্রীলঙ্কা সাড়া দেবে তেমন কোনও লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

বার্তাবাজার/কে.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর