ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের পঁচামাগুরা গ্রামের ধর্ষক তরিকুল ইসলামের (২২) ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে নির্যাতিত পরিবার ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় পঁচামাগুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ধর্ষিতার পিতা ও মা বক্তব্যে বলেন, ধর্ষক তরিকুল ও তার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মামলা করে টিকতে পারছে না। ধর্ষকের পিতা বাকা মোল্যা, ভাই জুয়েলসহ তার লোকজন এর আগে মামলার বাদি নির্যাতিতা কিশোরীর মাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় সে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সপ্তাহ চিকিৎসা গ্রহণ করে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রতিনিয়িত ধর্ষণ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের পর নানা ভাবে চাপ প্রয়োগসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকের পরিবার। এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা নির্যাতিত পরিবারটি ধর্ষকের ফাঁসি ও অন্য আসামিদের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন। ধর্ষক তরিকুল এলাকার আরো ২-৩টি মেয়ের সাথে এ রকম ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করে।
জানা যায়, পঁচামাগুরা গ্রামের বাকা মোল্যার ছেলে তরিকুল ইসলাম প্রতিবেশি ৯ম শ্রেণীর ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রেমের প্রস্তাবসহ নানা ভাবে উত্যক্ত করতো। গত ৫ এপ্রিল ওই কিশোরী বাড়ির পাশে বাগানে লাকড়ি আনতে গেলে লম্পট তরিকুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদি হয়ে তরিকুল, তার ভাই জুয়েল মোল্যা (৩৫), বারিক মোল্যা (৩২), পিতা বাকা মোল্যা (৬০) ও বারিক মোল্যার স্ত্রী সনিয়া বেগমকে (২৬) আসামি করে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। মামলা নং ১। ওই মামলায় ধর্ষক তরিকুল বর্তমানে জেল হাজতে থাকলেও বাকি ৪ আসামি জামিনে থেকে বাদি ও বাদির পরিবারকে নির্যাতন করছে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় বাদির স্বামী থানায় আরও একটি মামলা করেছেন। মামল নং ৭। এ ছাড়া থানায় তিনটি জিডি করেছেন। কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার এসআই শাহাদত হোসেন তদন্ত শেষে গত ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র নং ১৮৭। অভিযোগপত্র, ফরেনসিক রিপোর্ট, ২২ ধারায় কিশোরীর জবানবন্দিতে ধর্ষণের ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদত হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় চার্জসীট দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনাটি সঠিক। ধর্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বাদিরদের উপর নির্যাতন করতে পারে। মারধরের ঘটনায় আরেকটি মামলাও হয়েছে। আশা করি নির্যাতিত পরিবার দ্রুতই ন্যায় বিচার পাবে।
বার্তাবাজার/প্রিতম