হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে আগাম শীতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গ্রামীণ জনজীবন।
আজ বৃহস্পতিবার(১০ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় লালমনিরহাটে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সকাল থেকে ঘনকুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের প্রবল ঠান্ডায় জুবুথুবু অবস্থা গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষদের।
এদিকে অন্যান্য দিনগুলোর তুলনায় আজ রাস্তায় কম যানবাহন সহ অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়।
আবহাওয়া অফিস জানায়,আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত আবহাওয়া ও শৈত্য প্রবাহের খুব বেশি পরিবর্তন হবেনা এবং আগামী ১৬ তারিখের পরে আবহাওয়া ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর নিচেও নামতে পারে।
আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়ন এর হরিদাস গ্রামের দিনমজুর মন্টু মিয়া বলেন,”আইজ খুব জার নাগির নাকছে।হামরা কাম করির পাবারনাকছি না ঠিকমতোন।তামাকের পুলি গারির যায়া পাসুন হাত থেকি খুলি যাবার নাকছে”।
একজন রিক্সাচালক জমির আলী জানান,”ঠান্ডার জন্যে বাইরে মানুষ কম তাই সকাল থেকে বেশি ইনকাম করতে পারিনি।এখন পর্যন্ত শীতবস্ত্র কিনতেও পারিনি আর কেউ দেয়ওনি।আমাদেরকে দেখার মতো কেউ নাই।মানুষের রিক্সা ভাড়ায় নিয়ে চালাই কিন্তু আজকে মনেহয় রিক্সাভাড়াই দিতে পারবোনা”।
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে অবস্থিত কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান,এই তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে ১৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ১৬ই ডিসেম্বর পর থেকে তাপমাত্রা আরো কমার সম্ভাবনা সহ প্রবল শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতবস্ত্র বিতরণে জেলা প্রশাসন কি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জানতে চাইলে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান,ইতোমধ্যে জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ২১৭০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে শীতবস্ত্র বিতরণের প্রকৃয়া চলমান রয়েছে।
বার্তাবাজার/প্রিতম