সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা উপজেলা ডাকবাংলোর সামনে স্বাধীনতা স্কয়ারটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ৪ জন জাতীয় নেতার ভাস্কর্য।
এই ডাকবাংলো চত্বরে গেলে ভাস্কর্য ছাড়াও আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের খোদাই করা চিত্র নজর কাড়ে। স্বাধীনতা স্কয়ার ডাকবাংলোটির সামনের চত্বরেই স্থাপন করা হয়েছে। টেরাকোটায় খোদাই করা আবহমান বাংলার চিত্র, ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এর প্রতিটি বাউন্ডারি দেয়ালে।
জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল আকৃতির ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে ডাকবাংলোর সামনেই। আর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটির নিচে রয়েছে জাতীয় ৪ নেতা
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শহীদ তাজ উদ্দিন আহম্মেদ, শহীদ এম মনসুর আলী ও শহীদ এইচএম কামরুজ্জামানের ভাস্কর্য। এই জাতীয় ৪ নেতার প্রতিটি ভাস্কর্যের গায়ে রয়েছে তাদের বর্ণাঢ্য জীবনী।
তথ্যমতে, জেলা পরিষদের অর্থায়নে ডাকবাংলোর নির্মিত পাঁচতলা ভবনের সামনে উপজেলা পরিষদের জায়গার ওপর নির্মিত হয় স্বাধীনতা স্কয়ার। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের ব্যক্তিগত অর্থায়নে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে ৫২ থেকে ৭১ এর ঐতিহাসিক চিত্র এবং বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের চিত্র সম্বলিত বিভিন্ন শিল্পকর্ম ২০১৯ সালে এটির সীমানা প্রাচীরে আবহমান বাংলা স্থাপনের কাজ শুরু হয়।
কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের ব্যক্তিগত অর্থায়নে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে এখানে ভাস্কর্যগুলো নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি এখানে শোভা পাচ্ছে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের চিত্রও। এ স্বাধীনতা স্কয়ারটির সৌন্দর্য বর্ধনের কিছু কাজ বাকি আছে। এটি খুব শিগগিরই সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে আমরা প্রতিটি জাতীয় দিবসে এ ভাস্কর্যে পুস্পস্তবক অর্পণ করি। এছাড়া প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী এ ভাস্কর্য দেখার জন্য এখানে আসে। এটির সৌন্দর্য বর্ধন কাজ সম্পন্ন হলে দলে দলে দর্শনার্থীরা এসে ভিড় করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, উপজেলা পরিষদের জায়গাতেই মোহাম্মদ নাসিমের অর্থায়নে ভাস্কর্যগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও এখানে জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য রয়েছে। এছাড়া ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশ-এসব বিষয় এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। এগুলোর নিরাপত্তায় আমরা এরই মধ্যে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে। কেউ যাতে ভাস্কর্যের কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি।
বার্তাবাজার/কে.কে