১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের বুকের তাজা রক্ত ও ২ লাখ নারীর ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত ভূখণ্ডে স্বগৌরভে উত্তোলিত হয় লাল সবুজের পতাকা।
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতিস্বরূপ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব দেয়া হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপন করে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে একজন, নোয়াখালী জেলার কৃতি সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর রণতরী “পলাশ’কে বাঁচানোর চেষ্টায় শাহাদত বরণ করেন।
১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন । তার বাবা আজহার পাটোয়ারী এবং মায়ের নাম জোলেখা খাতুন। নিজ এলাকায় পড়াশোনা শেষ করে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করেন তৎকালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে। ১৯৭১ সালে রুহুল আমিন চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। স্থল যুদ্ধের বিভিন্ন অভিযানেও যোগ দেন৷ পরবর্তীতে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সেক্টর ও সাব-সেক্টর থেকে নৌবাহিনীর সদস্যদের একত্রিত করে গঠন করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আর বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন দায়িত্ব পান গানবোট পলাশের প্রধান ইঞ্জিনরুমে আর্টিফিশার পদে।
স্বাধীনতার কেটে গেছে ৪৯ টি বছর। স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে গোটা জাতি। এ দীর্ঘসময়ের পরও নিজ জেলায় প্রতিষ্ঠিত উপকূলীয় অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) তে অবহেলিত জাতির সূর্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন। নোবিপ্রবির একাডেমিক কার্যক্রমের ১৫ বছর কেটে গেলেও এখনো এ মহান মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হল, ভবন, চত্বর কিংবা স্থাপন করা হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ টি আবাসিক হল, লাইব্রেরি ভবন, অডিটোরিয়াম ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও কেন্দ্রীয় চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না নোয়াখালীর এ কৃতি সন্তানের নাম।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে কোন ভবনের নামকরণ করা হক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বারবার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
বার্তাবাজার/প্রিতম