নড়াইল মুক্ত দিবস আজ

আজ ১০ ডিসেম্বর নড়াইল মুক্ত দিবস। রাজাকার ও পাক সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে ১৯৭১ সালের এইদিনে নড়াইলের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা নড়াইলকে হানাদার মুক্ত করে।

স্বাধীনতাকামীরা উল্লাস করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। উড়িয়ে দেয়া হয় লাল সবুজের পতাকা।

১৯৮১ সালের ৭ ডিসেম্বর শহরের মাছিমদিয়ায় রাজাকারদের হাতে কলেজ ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান ও ৯ ডিসেম্বর শহরের রূপগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থানরত পাকিস্থানী  রিজার্ভ ফোর্স, পুলিশ ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে  বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান শহীদ হন। এ সময় শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল গতি নিয়ে হানাদারদের বিরুদ্ধে চড়াও হয়।

নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও খড়রিয়া মুক্তযোদ্ধা ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে শহরে ত্রিমুখী আন্দোলন শুরু করে। এদিন রাতে আনুমানিক দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা রূপগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (ওয়াপদা) অবস্থিত পাকিস্থানি ও রাজাকার বাহিনীর সবচেয়ে বড় ক্যাম্পের দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর দিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে।

আনুমানিক ভোর ৪টা থেকে রূপগঞ্জ জামে মসজিদ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমির হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন রানার নেতৃত্বে বর্তমান উৎসব কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সাঈদুর রহমান সেলিম, জিন্দার আলী খান, মো. কুবাদের নেতৃত্বে এবং ব্যবসায়ী মালেক মোল্লার দোতলায় সদর উপজেলা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার শরীফ হুমায়ুন কবির, হালিম মুন্সি, সাইফুর রহমান হিলু ও শেখ আজিবর রহমান প্রমুখের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা শক্রপক্ষের ওপর গুলি বর্ষণ শুরু করে।

যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাক বাহিনীর দুই সেন্ট্রি গুরুতর আহত হলে তারা ভীত হয়ে পড়ে। পরে ১০ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে পাকিস্থানি মিলিশিয়া বাহিনীর অধিনায়ক বেলুচ কালা খান ২২ পাকিস্থানি সেনা, ৪৫ জন রাজাকার ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। শত্রুমুক্ত হয় নড়াইল।

এর আগে ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া থানা এবং ১০ ডিসেম্বর কালিয়া থানা শক্রমুক্ত হয়। এদিকে প্রতি বছরের মতো এবারো নড়াইল মুক্ত দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, গণকবর ও বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ। এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছে।

 

বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর