২০১২ সালে ভারতের দিল্লিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে কঠর শাস্তির বিধান করা হয়। তবে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি আজীবন কারাদণ্ড হলেও হিজড়া ও রুপান্তরকামী ধর্ষণ করলে সেই শাস্তির বিধান মাত্র ২ বছর। যার ফলে বোইষোম্যের শিকার হচ্ছেন দেশটির ভিন্ন লিঙ্গের এই সম্প্রদায়টি।
এ বিষয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে যৌন সহিংসতার বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে রূপান্তরকামীদের প্রতি ব্যাপক বৈষম্যের চিত্র।
বর্তমানে ভারতীয় আইনে কোনো নারীকে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছর থেকে আজীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ধর্ষিতা যদি ধর্ষণের পর অচেতন অবস্থায় থাকেন, ধর্ষণকারীর যদি আগেও ধর্ষণের রেকর্ড থাকে অথবা ধর্ষিতার বয়স ১২ বছরের কম হলে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে তৃতীয় লিঙ্গের কাউকে ধর্ষণ যেন সাধারণ অপরাধ দেশটিতে।
দেশটির ২০১৯ সালের আইন অনুযায়ী, রূপান্তরকামী কাউকে শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের শাস্তি সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড।
এ বিষয়ে ভারতে অন্যতম রূপান্তরকামী বিচারক স্বাতী বিধান বড়ুয়া বলেন, ‘রূপান্তরকামী ব্যক্তিকে যৌন নিপীড়নের শাস্তির এই ব্যাপক বৈষম্যের মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, আমাদের জীবনের কোনো দাম নেই।’
রূপান্তরকামীদের অধিকারের জন্য লড়াই করা কর্মীরা বলছেন, লঘু শাস্তির কারণে তাদের ওপর যৌন সহিংসতার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এর ফলে সমাজে যেন এই বার্তাই দেয়া হচ্ছে, তাদের জীবনে নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই।
গত অক্টোবরে রূপান্তরকামীদের প্রতি যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের শাস্তিতে বৈষম্য নিরসনের জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়। আদালত তখন ভারতের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় এবং সামাজিক বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে জবাব দিতে নির্দেশ দেন, যদিও মন্ত্রণালয় দুটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া আসেনি।
বার্তাবাজার/এসজে