গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে খেজুর গাছের রসকে ঘিরে। শীত প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে খেজুর রসে পিঠাপুলির গন্ধে আসছে। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠা খেজুর গাছের কদরও বাড়ে।খেজুর গাছ সুমিষ্ট রস দেয়। রস থেকে তৈরি হয় গুড় ও পাটালি। আর শীতের শুরুতেই রংপুর নগরী ১০ নং ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে মিষ্টি খেজুর রস সংগ্রহ।
মৌসুমে খেজুর রসের চাহিদার পরিমাণ বেশি থাকে। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোন যত্ন ছাড়াই বড় হয়ে ওঠে।শুধু মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়।
খেজুর গাছের পাতা মাদুর তৈরি ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ বৃদ্ধি করা হলে দেশের গুড় পাটালির চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রফতানি করা হলে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে।
রংপুর নগরী জগদীশপুর খেজুর চাষি মদন মোহন বাবু জানান, নিজস্ব দেড় বিঘা জমিতে এক শত খেজুর গাছ লাগান পঁচিশ বছর আগে। খেজুর গাছ পাশাপাশি তিনি ধান,শাক-সবজি, এবং পুকুর খনন করে মাছ চাষ করতো। এলাকায় নিজ উদ্যোগ খেজুর গাছের চাষ শুরু করেন প্রথম । শীত মৌসুমে তিন থেকে চার মাসের জন্য খেজুর গাছ রস সংগ্রহ কাজে ব্যস্ত থাকি। এগুলো রস এবং গুড় তৈরি করে রংপুর নগরী বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করি।
তিনি বলেন, এবার ১০০টি গাছ আমার রস দিবে। প্রত্যেক দিন ১০ টি গাছ থেকে ২০ লিটার রস সংগ্রহ করি। সংসারে পাঁচ জন সদস্যের পরিবার দুই ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে। এর ওপর তিন থেকে চার মাস ভালোভাবে চলে। অন্য সময়ে কৃষি জমিতে ধান চাষ কাজ করি।
বার্তাবাজার/এ.আর
বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।