রোববার রাতে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা চালু ছিল, পাহারার দায়িত্বে ছিলেন ১৬ জন আনসার এবং ৮ জন পুলিশ সদস্য। কিন্তু তারপরেও সবার চোখে ধুলো দিয়ে মধ্যরাতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের দেয়াল টপকে পালিয়েছে আটজন কিশোর। এদের সবার বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
যশোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেছেন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত সোয়া দুইটার দিকে দেয়াল টপকে পালিয়ে গেছে ওই আটজন।
পুলিশ বলছে, ডিসেম্বরের শুরুতে `বেপরোয়া’ আচরণের শাস্তি হিসেবে ওই আটজন কিশোরকে একটি কক্ষে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। কক্ষটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের মূল আবাসিক ভবনের বাইরে, প্রাচীরের কাছে অবস্থিত।
এই ভবনটি এক তলা এবং এর অবস্থান শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের গার্ডের ঘরের পেছনে। যশোরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ভেতরে অগাস্টে তিন কিশোর নিহত হয়েছিল। পুলিশ সুপার হোসেন বলেছেন, আটজন কিশোরকে যে ভবনে রাখা হয়েছিল, সেটি পুরনো, আর কক্ষ সংলগ্ন বাথরুমটিও বেশ পুরনো।
এই বাথরুমের জানালার গ্রিল ভেঙেই পালিয়েছে ওই কিশোরেরা।
তিনি বলেন, ‘ওই বাথরুমের জানালার গ্রিলগুলো অনেক পুরনো, দেয়ালও অনেক স্যাঁতসেঁতে। ওই ছেলেরা সহজেই জানালার গ্রিল ভেঙে উন্নয়ন কেন্দ্রের মাঠে নেমে পড়ে।’
‘এরপর তারা বৈদ্যুতিক কাজের একটি মই খুঁজে পায়। সেটি দিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে যায় সব কজন।’
হোসেন বলেছেন, জানালা ভেঙে চত্বরে নেমে পড়া এবং এরপর পা টিপে টিপে উন্নয়ন কেন্দ্রের উঁচু প্রাচীরে বৈদ্যুতিক কাজের মই ঠেকিয়ে দেয়াল টপকে যাবার ঘটনার পুরোটাই সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জেনেছেন তারা।
তবে, ঘটনার সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ভেতরের কর্মকাণ্ডের দিকে কেউ নজর রাখছিলেন না, তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।
ঘটনার সময় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের পাহারার দায়িত্বে ছিলেন ১৬ জন আনসার এবং ৮ জন পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সুপার হোসেন বলেছেন, ‘হয়ত রাতের বেলায় ঘুমিয়ে পড়েছিল বা নিরাপত্তা একটু ঢিলেঢালা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অবশ্যই যথাযথ দায়িত্ব পালন করছিলেন না তারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন বলেছেন, এই ঘটনায় একটি জিডি দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই কিশোরদের পরিবারকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। এই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোকে আগে কিশোর সংশোধন কেন্দ্র বলা হত, পরে সে নাম পরিবর্তন করা হয়।
মূলত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত শিশু কিশোরকে এখানে সাজার পরিবর্তে সংশোধনের জন্য ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত রাখা হয়। বাংলাদেশে মোট তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র আছে। এর মধ্যে টঙ্গি ও যশোরের দুটি ছেলেদের জন্য, এবং গাজীপুরে মেয়েদের জন্য একটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে।
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে এই মূহুর্তে ২৭৭ জন শিশু-কিশোর রয়েছে। এই যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রেই অগাস্ট মাসে কেন্দ্রের আনসার সদস্যদের বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়ে তিনজন শিশু নিহত হয়েছিল।
সেসময় গুরুতর আহত হয়েছিল ১৫ জন কিশোর।
সূত্র : বিবিসি