শার্শায় সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক পরায় অনিহা

মহামারি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ধেয়ে আসছে। সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশ সরকারও এই ঢেউ মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার সাধারণ মানুষের মধ্যে এর তেমন প্রভাব পড়ছেনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করলেও সচেতন হচ্ছেননা তারা। মাস্ক না পরেই যেখানে সেখানে বেড়িয়ে পড়ছেন।

চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশে কোভিড—১৯ রোগী সনাক্ত হয়। এরপর ১৭ মার্চ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ২৭ মার্চ থেকে অফিস আদালতের কাজও কম করে দেয়া হয়। দেশের প্রতিটি এলাকায় থেমে থেমে চলতে থাকে লকডাউন। চরম এক ভয়াবহ অবস্থা পার করে সারাবিশ্বের ন্যায় এদেশের মানুষ। তবে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে করোনার প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমলে আস্তে আস্তে সব কিছু আবার স্বাভাবিক হতে থাকে। এরই মধ্যে পুনরায় শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ধাপ।

সরকার প্রধান থেকে সর্বোচ্চ সর্তকতা নির্দেশনা আসে দেশের প্রতিটি এলাকায়। এতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সরকারের এই নির্দেশনা কমবেশি মানলেও শার্শা উপজেলার মানুষ এ নির্দেশনা চরম ভাবে অবহেলা করছেন। গ্রাম থেকে শহর, কোথাও সতর্কতা চোখে পড়ছেনা। শীত শুরুর সাথে সাথে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। অথচ এ জনপদের মানুষ মাস্ক পরা যেন ভুলেই গেছেন।

সোমবার শার্শা উপজেলা সদরের প্রতিটি সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা চত্তর, এমনকি পাড়া মহল্লার অলিগলি ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে বেশ অসচেতন। তারা মাস্ক ছাড়াই বাজারে যাচ্ছেন। বাজারে আগত মানুষ, পথচারী কিংবা ব্যবসায়ীদের কাছে মাস্ক পরা হয়নি কেন জিজ্ঞাসা করলে তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কিছুটা মুচকি হেসে চলে যাচ্ছেন।

মাস্কপরার বাধ্যবাধকতা নিয়ে আরও কড়া নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থ্যা (ডব্লিউএইচও)। নতুন এই নির্দেশনায় কোভিড—১৯ সংক্রমনের বিস্তার ঘটা এলাকাগুলোর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সকলের মাস্কপরা এবং ভালো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই—এমন ঘরেও অবশ্যই মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। গত বুধবার সংস্থাটি এই নির্দেশনা জারি করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার সোচ্চার। আমরা মাঠ পর্যায় থেকে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে মাস্কের ব্যাপারে আমরা জিরো টালারেন্স ঘোষণা করেছি। মাস্ক ব্যতিত কোন সেবা প্রদান করা হচ্ছে না।

বার্তাবাজার/আবির

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর