পঞ্চগড়ে দ্রুততম সময়ে করোনা শনাক্তের জন্য র্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট সেবা চালু হয়েছে।
শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী ক্যাম্পে বহু প্রতিক্ষিত এই সেবা চালু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মাধ্যমে প্রান্তিক এ জেলার করোনা রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম দিনেই করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা ৩ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয় এবং ২০/২৫ মিনিটের মধ্যেই তাদের ফলাফল দেয়া হয়। ৩ জন রোগীর মধ্যে ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হবে। কেবল মাত্র যাদের করোনার উপসর্গ রয়েছে তারাই ১০০ টাকার ফি দিয়ে এই পরীক্ষা করাতে পারবেন। ১ জন মেডিকেল অফিসার ও ২ জন মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট এই সেবা দিবেন। যাদের করোনা নেগেটিভ হবে তাদের নমুনা দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটিপিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। জেলায় ৫’শত কিট সরবরাহ করা হয়েছে।
কোভিড-১৯ পরীক্ষা করতে আসা পঞ্চগড় শহরের মসজিদ পাড়া এলাকার আবুল কাশেম প্রধান রাজু জানান, আমার পরিবারের দুইজন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত। তাছাড়া আমার জ্বর-সর্দি ও কাশিঁ দেখা দেয়ায় আজ করোনা পরিক্ষা করালাম। তবে আমার নেগেটিভ এসেছে। তারপরেও দ্বিতীয় দফায় নমুনা দিলাম। দ্রুত করোনার রেজাল্ট পেয়ে আমি খুব খুশি।
পঞ্চগড় পৌর এলাকার মির্জা আব্দুল বাকী জানান, আমি উপস্বর্গ নিয়ে করোনা পরিক্ষা করাতে আসলে র্যাপিড এন্টিজেন টেষ্টের মাধ্যেমে দ্রুতই রেজাল্ট পেয়েছি। আমি করোনা পজেটিভ হয়েছি। তবে এ টেষ্টের ব্যাপারে কোন প্রচারণা না থাকায় অনেকেই এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। যদি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কোন প্রচারণার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে। তবে সবাই করোনা পরিক্ষায় এগিয়ে আসবে বলে আমি মনে করি।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আফরোজা বেগম রীনা বলেন, আজ থেকে প্রাথমিকভাবে আমরা র্যাপিড এন্টিজেন টেষ্ট শুরু করলাম। প্রতিদিন ১০টা হতে ১টা পর্যন্ত এ টেষ্টের কার্যক্রম চলবে। ইতিমধ্যে ১জন চিকিৎসক দুইজন মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আমরা ৫০০ কিট হাতে পেয়েছি। আশা করছি এত করোনা পরিক্ষা করতে আসা সকলে উপকৃত হবে।
বার্তাবাজার/এম.এ.আর