মুলা প্রতি কেজি ১ টাকা, তারপরও ক্রেতা শূন্য চাষিরা
মুলা প্রতি কেজি ১টাকা, তারপরও ক্রেতা শূন্য গাইবান্ধার চাষিরা। মুলার পাশাপাশি অন্য সবজির দামও কমেছে।
উপজেলার ধাপেরহাট ঘুরে দেখা যায়, মুলার আবাদ ভালো হওয়ায় হাটে স্থান সংকুলান হয়নি তাই পাশের একটি মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে মুলার হাট। মাঠের আনাচে-কানাচে সব জায়গায় পরিপূর্ন হয়ে আছে মুলায়। মুলার দাম নেই আমদানি বেশি হওয়ায়। ১ টাকা দরে প্রতি কেজি হলেও বিক্রি করতে পারছেন না অনেক মুলা চাষি।
স্থানীয় মূলা ব্যবসায়ী জুবায়ের হোসেন ও সাফিউল জুয়েল জানান, বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) ধাপেরহাটে প্রতি মণ মুলা প্রকার ভেদে ৪০-৬০ টাকা মণ দরে ক্রয় করছি। হাটে প্রচুর মুলার আমদানি হয়েছে। তাই দাম কম। এসব মুলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে।
উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের কামরুল হাসান জানান, শুরুর দিকে আশানুরুপ দাম পেলেও মুলার বাজারমূল্যে দ্রুত ধস নেমেছে। ৪০ টাকা মণ দরে মুলা বিক্রি করলাম। এতে লাভতো দূরের কথা খরচও উঠছে না।
এদিকে, এক টাকা দরে মুলা বিক্রি হলেও অনেক চাষীকে হাটের মুলা নিয়ে এসে ক্রেতা অভাবে বসে থাকতে দেখা গেছে।
উপজেলা নিজপাড়া গ্রামের মুলা চাষি ষাটোর্ধ সাহরিয়ার হৃদয় জানান, সকালে মুলা নিয়ে হাটে এসে ক্রেতা অভাবে বাসে আছি। মুলা নিয়ে এসে বিপদে পড়েছি। এক টাকা দরেও মুলা বিক্রি করতে পারছি না।
অপরদিকে, হাট ঘুরে দেখা যায় অন্য সবজির দামও কম। পাশ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর এলাকার ফুলকপি চাষি সাহেদ জানান, প্রতি মণ ফুলকপি ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গেল সপ্তাহে প্রতি মণ ফুলকপি এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
হাটে আসা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বেগুন চাষি মাফুজ জানান, প্রতিমণ বেগুন ৮শ’ থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গেল সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকায়।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, বন্যার পর চাষিরা এক সঙ্গে সবজি চাষ করেছে। ফলও ভাল হওয়ায় হাট-বাজারে আমদানিও বেশি। তাই দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে।
বার্তাবাজার/এম.এ.আর