করোনা ভ্যাকসিন তৈরির প্রযুক্তি উন্মুক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য করোনা ভ্যাকসিনের প্রযুক্তি হস্তান্তরের ও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে ‘বিশ্ব জনপণ্য’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
করোনা মহামারি নিয়ে (০৪ ডিসেম্বর) আয়োজিত জাতিসংঘের এক বিশেষ সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত সভায় শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোর পৌনে তিনটায় ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে, তিন দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, করোনাভাইরাসের কারণে এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক বিপর্যয়গুলো তুলে ধরে মন্তব্য করেন, এই মহামারি পৃথিবীকে আবারও পিছিয়ে দিলেও পুরো বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হবার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এটি এমন একটি ভাইরাস যা বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রণে না আনলে কোন একক অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। আর তাই এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে নতুন করে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই তিন দফা প্রস্তাবের মূল বক্তব্য, বিশ্বর বিভিন্ন দেশে উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের মানসম্পন্ন টিকাগুলো সঠিক সময়ে, স্বল্প মূল্যে প্রতিটি মানুষের জন্য নিশ্চিত করা, উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনগুলো ট্রিপস চুক্তির আওতায় মেধা স্বত্ব উন্মুক্ত করা এবং করোনা মহামারির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে তার স্বীকৃতি ঘোষণা করা।
বাংলাদেশের করোনা ভ্যাকসিন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে গোটা বিশ্বের জন্য একটি ‘বৈশ্বিক জনপণ্য বিবেচনা করতে হবে। ডব্লিউএইচও’র অ্যাক্ট এবং কোভাক্স সুবিধার উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উন্নত দেশগুলোর ট্রিপস চুক্তির (ট্রেড রিলেটেড অ্যাসপেক্টস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপারটি রাইটস) আওতায় আইপি রাইটস ওয়েভার ব্যবহার করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের সক্ষমতা রয়েছে এবং সুযোগ পেলে ভ্যাকসিন তৈরি করতে প্রস্তুত রয়েছে।
করোনা মহামারি ঠেকাতে বিশ্ব নেতাদের এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসতেই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের এই ৩১তম বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে পুরো বিশ্বকে এক হয়ে কাজ করার বিকল্প নেই।
জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানরা নিজ নিজ দেশ থেকেই ভার্চ্যুয়ালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের এই সভায় যোগ দেন।
বার্তাবাজার/এ.এম.আর