আজ ৩ ডিসেম্বর কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস

আজ ৩রা ডিসেম্বর।। কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয় এই উপজেলা।গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়াই প্রথম হানাদার মুক্ত হয়।

দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রায় ৫’শ পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে কোটালীপাড়াকে শত্রুমুক্ত করেছিল হেমায়েত বাহিনী। । এই দিনে হেমায়েত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পতন হয় পাকবাহিনীর। এলাকার সর্বত্রই পাকিস্তানীদের পতনের পর ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির উল্লাস। লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা আর জয় বাংলার ধ্বনি শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন তারা । উড়িয়েছিলেন স্বাধীন বাংলার পতাকা এই উপজেলার মাটিতে।

এ উপজেলায় পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা ছিল খুবই শক্ত অবস্থানে। আর এ এলাকারই সন্তান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষক প্রায়ত হেমায়েত উদ্দিন যুদ্ধ শুরু হলে দেশে পালিয়ে আসেন। পাক হানাদার বাহিনীকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে তৎকালীন সময়ে এদেশে কয়েকটি অঞ্চলে গঠিত হয়েছিল কয়েকটি বাহিনী। তার মধ্যে অন্যতম হেমায়েত বাহিনী। ৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন হেমায়েত বাহিনী। কোটালীপড়ায় তিনি একটি ট্রেনিং ক্যাম্পও গড়ে তোলেন।

যুদ্ধ চলাকালীন কোটালীপাড়া সদর, হরিনাহাটি, মাটিভাঙ্গা, বাশবাড়িয়া, ঝনঝনিয়া,রামশীল,জহরের কান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় হেমায়েত বাহিনী। এ ছাড়া ছোট যুদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি।

সকল যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন হেমায়েত বাহিনী প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম।

কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামছুল হক বলেন, ৭২টি গ্রুপের সমন্বয়ে গঠিত এই হেমায়েত বাহিনী যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে। এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মুজিবুল হক বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শুধু যৌথবাহিনীই দেশ মাতৃকার মুক্তিযুদ্ধ করেনি। পাক হানাদার বাহিনীকে এদেশ থেকে তাড়াতে তৎকালীন সময়ে এদেশে কয়েকটি অঞ্চলে গঠিত হয়েছিল কয়েকটি বাহিনী। “ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছিল হেমায়েত বাহিনী। আমরা এই হেমায়েত বাহিনীর অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেছি।”

বার্তাবাজার/এম.এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর