মিথ্যা অপবাদে যুবককে যুবলীগ-বিএনপি নেতার নির্যাতন (ভিডিওসহ)

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক হোমিও ডাক্তার কে রাতভর মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা ও এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার সালধ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার আশরাফুল ইসলাম (জুয়েল শিকদার) ঘড়িষার ইউনিয়নের হাইলসার গ্রামের মকবুল শিকদারের ছেলে। এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার জুয়েল শিকদার বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযুক্তরা হলেন ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সেলিম শিকদার ও একই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বিল্লাল হাওলাদার সহ ৭ জন। এই ঘটনায় নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে সেই যুবক।

অভিযোগ সূত্রে ও স্থানীয় ভাবে জানা যায়, জুয়েল শিকদার শরীয়তপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চতুর্থবর্ষের ছাত্র। তার নির্বাচনী পরীক্ষার একটি প্রয়োজনীয় বইয়ের জন্য সালধ গ্রামের খালেক করাতির বাড়ির দিকে যায় সে। পথিমধ্যে তার মোবাইলে একটা কল আসলে মোটরবাইক থামিয়ে সে কথা বলে। তখন যুবলীগ নেতা সেলিম শিকদারের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে তার মোটরবাইকের চাবি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় বলাই কর্মকারের ঘরে আটকে রেখে লাঠি ও রড দিয়ে তাকে রাতভর মারধর করে। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য তাদের সাজানো কথা জুয়েল শিকদারকে শিখিয়ে দেয়। জুয়েল তাদের কথা মেনে না নিলে আরও বেশী নির্যাতন করতে থাকে তাকে। আর সন্ত্রাসীরা দাবী করে তাদের কথা মেনে নিলে জুয়েলকে ছেড়ে দিবে।

নির্যাতনে শিকার জুয়েল শিকদার বলেন, এ শীতের রাতে আমার জামা-কাপড় খুলে তারা আমাকে পিটায়। আমাকে নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে রাখে। পিপাসায় আমার গলা শুকিয়ে গেলেও আমাকে পানি দেয় নাই। সেই ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তারা আমাকে পিটিয়ে জোরকরে শিখানো কথা ও অনেক মিথ্যা জবানবন্দি রেকর্ড করে। স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়। এ সময় তারা আমার মোটরসাইকেল, মোবাইল ও মানিব্যাগ রেখে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমার পরিচয় পেয়ে তা ফিরিয়ে দেয়। ভোর সারে ৪টায় তারা আমার স্ত্রীকে খবর দিলে আমার স্ত্রী দের মাসের শিশু সন্তান রেখে এসে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করলে আমাকে সন্ত্রাসীরা ছেড়ে দেয়।

ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সেলিম শিকদার বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। পরে এলাকার লোকজন আমাকে ডেকে নিয়েছে। তারা আমাকে জানায় জুয়েল নাকি নিয়মিত এ এলাকার একটি মেয়ের সাথে অনৈতিক কাজে যাতায়াত করে। সেই মোতাবেক তাকে আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ অফিসার বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

https://www.facebook.com/Bartabazarbd/videos/1753352021496262

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর