‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ৬৯৩ কোটি ১৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।
প্রকল্পে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত সংযুক্ত SEA-ME-WE-6 সাবমেরিন ক্যাবলটি ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর হয়ে ভূমধ্য সাগর অবধি বিস্তৃত হবে। ক্যাবলটির কোর ল্যান্ডিং স্টেশন হবে সিঙ্গাপুর, ভারত, জিবুতি, মিসর ও ফ্রান্সে। বাংলাদেশের শাখাটি বঙ্গোপসাগর হয়ে কক্সবাজারের ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। কক্সবাজারকে এ প্রকল্পের এলাকা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
মূল সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হবে ১৩ হাজার ২৭৫ কিলোমিটার, এর শাখা সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হবে ১ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার, যন্ত্রপাতি স্থাপনপূর্বক লাইট আপ করা, সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্স ল্যান্ডিং স্টেশনে Carrier Neutral PoP পর্যন্ত ল্যান্ড ক্যাবল সংযোগ স্থাপন করা হবে।
ডাটা সেন্টারের অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক কাজ, একটি ৫০০ কেভিএ স্ট্যান্ড বাই-ডিজেল জেনারেটর স্থাপন করা, স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ সিস্টেম স্থাপন করা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম (Precision Air Conditioner) স্থাপন করা, যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য ভবন এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের রেস্ট হাউজ নির্মাণ (২৪২৮ বর্গফুট দোতলাবিশিষ্ট ফাংশনাল বিল্ডিং নির্মাণ এবং ২৫৯৫ বর্গফুট তিনতলা বিশিষ্ট রেস্ট হাউস নির্মাণ) করা হবে।
উচ্চ গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার জন্য তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। সরকার আশা করছে, ফাইভ-জি বা পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তির যুগে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে মাইলফলক হবে এ ক্যাবল।
বার্তা বাজার/এএস