স্কুল পর্যায়ের নতুন তিন বইয়ে যা যা থাকছে

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২২ সাল থেকে নতুন পাঠ্যসূচীতে শিক্ষাদানের লক্ষ্য নিয়ে এখন প্রস্তুতি কাজ চলছে এবং এর অংশ হিসেবেই যুক্ত করা হচ্ছে নতুন নামের কয়েকটি বিষয়।

যদিও এসব নতুন বিষয়গুলো নামের দিক থেকে নতুন হলেও বিষয়বস্তুর দিক থেকে পুরোপুরি নতুন নয় বলেই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনসিটিবি ইতোমধ্যেই জানিয়েছে যে, নতুন পাঠ্যসূচীতে সব শিক্ষার্থীকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত দশটি বিষয় পড়তে হবে৷ আর এসএসসি পরীক্ষা হবে দশম শ্রেণিতে এবং শুধুমাত্র দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির আলোকে। সেই সঙ্গে এসএসসিতে শুধুমাত্র পাঁচটি বিষয়ের ওপর খাতা-কলমে পরীক্ষা নেয়ার সুপারিশ করেছে এনসিটিবির এ সম্পর্কিত কমিটি।

অর্থাৎ দশম শ্রেণিতে ১০টি বিষয় পড়ানো হলেও এসএসসি পরীক্ষা হবে ৫টি বিষয়ের ওপর। সেগুলো হলো: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান।

অন্যদিকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, এবং শিল্প ও সংস্কৃতি এই পাঁচটি বিষয়ে খাতা কলমে কোন পরীক্ষা নেয়া হবে না। এই পাঁচটির মধ্যে তিনটিই নতুন বিষয়।

এনসিটিবি বলছে, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের আগে দশজন শিক্ষাবিদকে নিয়ে ‘কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট এন্ড রিভিশন কোর কমিটি’ গঠন করা হয়েছিলো।

ওই কমিটিই নতুন পাঠ্যক্রমে কি কি পড়ানো হবে তার রূপরেখা প্রণয়ন করে এনসিটিবির কাছে জমা দেয়, যা পরে এনসিটিবি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মতামত গ্রহণের জন্য।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, পরীক্ষার ভার কমিয়ে শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে শিশু-কিশোরদের উপযোগী করা ও বৈশ্বিক মানের কথা বিবেচনা করেই সব কার্যক্রম চলছে।

“জীবন ও জীবিকা বিষয়টি হবে অকুপেশনাল বা পেশাভিত্তিক। বলতে পারেন যেটি এখন ভোকেশনাল কোর্স হিসেবে যা পড়ানো হচ্ছে এখন সেটাকে সংশোধন ও পরিমার্জন করে সফট স্কিলস নিয়ে জ্ঞান আহরণের সুযোগ বাড়ানো হবে। যেমন ধরুন একজন রোগীর সেবা করবেন কিভাবে কিংবা হোটেল ম্যানেজমেন্টের মতো আইডিয়াগুলো এখানে থাকবে। সাথে থাকবে কিছু হার্ড স্কিলসের বিষয় তবে সেটিও কোনো ভারী যন্ত্রপাতির বিষয় নয়,” মিস্টার মশিউজ্জামান বলছিলেন বিবিসি বাংলাকে।

পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নবম ও দশম শ্রেণিতে এখন যে পাঠ্যপুস্তক তালিকা আছে তাতে ক্যারিয়ার এডুকেশনকে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে রাখা আছে।

অন্যদিকে ভালো থাকা বিষয়টিতে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়, খেলাধুলার সাথে মানসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কিত এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়কে যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত এখন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা নামে পাঠ্যপুস্তক আছে।

এছাড়া শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে আগের চারু ও চারুকলার বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করা হবে নৃত্য ও সংগীতের মতো বিষয়গুলো।

কর্মকর্তারা বলছেন নতুন কারিকুলামে সব শিক্ষার্থীকে জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে পরীক্ষা না নিয়ে পুরোটাই ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে৷

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালে এই পদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে৷ বর্তমানে নবম ও দশম শ্রেণীর পাঠ্যসূচি মিলিয়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়৷

আর একাদশ শ্রেণি শেষে ও দ্বাদশ শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে৷

তবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সম্মিলিত ফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে৷ বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি শেষে একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়৷ এই স্তরে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও ৭০ শতাংশ পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন হবে। -বিবিসি বাংলা।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর