এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ডা. মিলনের মৃত্যু দিবস আজ

শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৭ নভেম্বর। প্রতিবছর ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশে শহীদ ডা. মিলন দিবস পালিত হয়। ১৯৯০ সালে আজকের এই দিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে স্বৈরশাসকের লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন তরুণ চিকিৎসক মিলন। এ হত্যার ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও ডা. মিলন হত্যার বিচার হয়নি, সাড়া মেলেনি পুনঃতদন্তের আবেদনের।

১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২১ আগস্ট ঢাকা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ডা. মিলনের জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সরকারী বিজ্ঞান কলেজ থেকে শিল্পকলা (ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টস) বিভাগে ২য় স্থান অধিকার করে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এইচএসসি পাশ করেন নটরডেম কলেজের ছাত্র হিসাবে। এর পর চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন (ব্যাচ কে-৩৪)। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রী লাভ করেন ও ডাক্তারী পেশায় যোগ দেন।

চিকিৎসা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ রুখতে যোগ দেন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। বারবার হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিয়েও তাঁকে দমাতে পারেনি সরকার। বরং প্রতিবারই বিপুল উদ্যমে ফিরে এসে শামিল হন জনতার কাতারে। স্বৈরাচার এরশাদের পতনের অব্যবহিত আগে শামসুল আলম খান মিলনের রক্তদান ছিল স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের এক টার্নিং পয়েন্ট। অঙ্গীকারের প্রতি ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তাই কাল হয়ে ওঠে। ১৯৯০ সালের এদিনে স্বৈরাচারের গুন্ডাবাহিনীর নির্ভুল বুলেট খুঁজে নেয় ডা. শামসুল আলম খান মিলনকে। তাঁর রক্তের স্রোতে এরশাদের পতন হলেও আজও নিশ্চিত হয়নি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা।

অগ্নিগর্ভ নব্বই। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল দেশ। দীর্ঘ ৯ বছর এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাত্র সংগঠনসহ পেশাবীবি ও গণসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আত্মাহুতি দেন। তাদের গুলি করে এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। এরশাদের লেলিয়ে দেয়া গুন্ডাবাহিনীর বুলেটে নিহত হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক ও বিএমর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শামসুল আলম খান মিলন। তাঁর রক্তদানের মধ্য দিয়ে নতুন গতিবেগ সঞ্চার হয় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। মিলনের মৃত্যুর এক সপ্তার মাথায় গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে স্বৈরশাসনের।

কিন্তু তরুণ চিকিৎসক মিলনকে কেন টার্গেট করেছিল সামরিক সরকার?

ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মা সেলিনা আখতার বলেন, তাঁকে অনেকবার সরকারি দলে যোগ দেয়ার জন্য বলা হলেও সে তা গ্রহণ করেনি। রংপুরে কোন পোস্ট নেই,তারপরও তাকে রংপুরে পোস্ট দেয়া হয়েছে। তাকে চাকরি থেকে একবার বরখাস্তও করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় তাকে সরকারের নির্যাতনমূলক শাস্তি দেয়া হয়েছিল। এই করোনাকালে আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে আমাদের স্বাস্থ্যখাতটা কতটা নাজুক। কিন্তু মিলনের স্বপ্ন এটা ছিল না। তার স্বপ্ন ছিল গরীব মানুষের দ্বারে দ্বারে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া।

ডা. মিলনের মা আরও বলেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র এবং গণমুখী চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলেই কেবল তার সন্তানের রক্তদান স্বার্থক হবে।

ডা. মিলন হত্যা মামলার বাদী ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এরশাদ চেয়েছিল এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে দোষ ছাত্রদের উপর চাপাবে। সে স্বরাষ্ট্র সচিবকে ডেকে কারফিউ জারি করার কথাও বলেছে। তার মানে এটি একটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে মিলন হত্যার দায়সারা তদন্তের কারণে সাজা হয়নি হত্যাকারী ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের। এমনকি আজও সাড়া মেলেনি পুনঃতদন্তের আবেদনেও।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন দিবস যথাযথ মর্যাদায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালনের জন্য দলের নেতা-কর্মীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর