১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞগাঁতী এস কে মডেল কারিগরি হাই স্কুল এন্ড বি. এম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. শহিদুল ইসলাম (৫০) ও অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের (৩৬) বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
সোমবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে মো. বাবুল আকতার নামের এক ভুক্তভোগী বাদি হয়ে ১২ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ এনে আমলী আদালত রায়গঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ৭/১৭০।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দৈবজ্ঞগাঁতী এস কে মডেল কারিগরি হাই স্কুলে এন্ড বি.এম কলেজে অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী পদে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে উক্ত পদে আবেদন করে বাদি বাবুল আকতার। পরে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হলে নতুন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো তৈরির অজুহাতে ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং- তারিখে ১২ লাখ টাকা আদায় করে প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম। এ টাকা গুনে নেয়ার পর কলেজের প্যাডে অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত বাবুল আকতারকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
পরে ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ইং তারিখের নির্দেশ মোতাবেক ৩ জানুয়ারি ২০১৮ ইং- তারিখে উক্ত প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী পদে যোগদান করে যথারীতি দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এদিকে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির পরে পুনরায় আরও ৮ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল ইসলাম দাবী করলে সেটা দিতে না পারায় অন্য লোককে চুড়ান্ত নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে বাদির প্রদত্ত টাকা ফেরৎ চাইলে তালবাহা ও এককালীন অস্বীকার করে।
বাদী পক্ষের আইনজীবি মো. লুৎফর রহমান জানান, দৈবজ্ঞগাঁতী এস কে মডেল কারিগরি হাই স্কুল এন্ড বিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী পদে কলেজে চাকরি দেওয়ার নামে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পরে চাকুরী দিতে না পেরে টাকাও ফেরত দেননি।
এ বিষয়ে দৈবজ্ঞগাঁতী এস কে মডেল কারিগরি হাই স্কুল এন্ড বিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল ইসলাম জানান, নতুন প্রতিষ্ঠানের কাঠামো তৈরির জন্য কিছু টাকা নেয়া হলেও সেটা তাকে ফেরৎ দেয়া হয়েছিল।
অপরদিকে, রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নামে অর্থ আত্মসাতের মামলাটি রেকর্ড করে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে, জাতীয় দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারে ‘রায়গঞ্জে কলেজ খুলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি আমলে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন।
সেটার ভিত্তিতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে এসে তদন্ত করেছিলেন, বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্নসচিব (প্রশাসন ও অর্থ) এস এম মাহাবুবুর রহমান, যুগ্নসচিব (কারিগরি-৩) মো. আয়াতুল ইসলাম ও সহকারি পরিচালক (এমপিও) জহুরুল ইসলাম।
বার্তাবাজার/অমি