শরীয়তপুরের নড়িয়ার মেয়ে রিতা আক্তার (২৫)। যে বয়সে তার বুনার কথা রঙ্গিন জীবনের স্বপ্ন, সে বয়সটা কেটে যাচ্ছে শিকলে বন্দি হয়ে। অভাবের সংসারে ৫ ভাইবোনের মাঝে চতুর্থ হলেও শৈশব কেটেছে তার বেশ আদরে।
উপজেলার ডিঙ্গামানিক গ্রামের আলাউদ্দিন দেওয়ানের মেয়ে রিতা ২০১২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। নির্বাচনী পরীক্ষা দিয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছিল পরীক্ষার জন্য। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। সবার আদরের মেয়ে এক সময় যেন পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তার কোমরে পরানো হয় লোহার শিকল। মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর ৯ বছর ধরেই এমন দুঃসহ জীবন কাটছে মেয়েটির।
রিতার বাড়িতে গিয়ে দেঝা যায়, বাড়ির পাশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বানানো মাচায় বসে আছে সে। কোমরে শিকলের সঙ্গে তালা। শিকলের আরেক দিক একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে তালাবদ্ধ। সাংবাদিক যাওয়ার পর এলাকার মানুষ জড়ো হয় সেখানে। মানুষ দেখে বিরক্ত হয়ে ঘুরিয়ে নেয় মুখ।
রিতার বাবা আলাউদ্দিনের সাথে আলাপ হলে তিনি জানান, ২০১২ সালে কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল রিতার। নির্বাচনী পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণও হয়। হঠাৎ জ্বর; এরপরই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে রিতা। টাকার অভাবে মেয়েটির চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এখনো সঠিকভাবে চিকিৎসা করাতে পারলে ভালো হয়ে উঠতে পারে সে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে সরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মেয়েটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। রিতার পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করবো, দেখি কি করা যায়।
বার্তাবাজার/এসজে