ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে মাগুরার ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা। হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা হলেও এটি সর্বজনীন প্রাণের উৎসবে রূপ নেয়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা হলেও মাগুরায় এর ব্যতিক্রম। মাগুরায় কাত্যায়নী পূজাই বেশি জাঁকজমক হয়। উপমহাদেশে কেবল মাগুরাতেই এত জাঁকজমকপূর্ণভাবে কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
করোনার কারণে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া অন্য সব আয়োজনই সীমিত।কাত্যায়নী পূজা উপলক্ষে প্রতিবছর লাখো মানুষের ঢল নামে মাগুরায়। এ জেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবের ঐতিহ্য প্রায় শত বছরের। রঙ বেরঙের আলোকসজ্জা ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা দেখতে দেশের অন্যান্য এলাকার পাশাপাশি প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের মানুষও মাগুরায় ভিড় জমান।
পূজাকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী চলে আলোকসজ্জা ও গ্রামীণ মেলা। এবার সে জমজমাট আয়োজন থাকছে না।মাগুরা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, এ বছর মাগুরা পৌর এলাকায় ১৬টি, সদর উপজেলায় ৩১টি, শ্রীপুরে ১৩টি, মহম্মদপুরে ১১টি ও শালিখায় ২৩টি মিলিয়ে জেলায় মোট ৯৪টি মন্ডপে কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রশাসন ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে এবার পূজায় মেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজামণ্ডপে প্রতিমা দর্শন শেষে রাত ৯টার মধ্যে স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, অন্যবারের মতো আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেম সীমিত আকারে পরিবেশনের জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’।
পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান জানান, প্রতিবারের মতো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশের টহল থাকবে। করোনা পরিস্থিতিতে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর থাকবে। পাঁচ দিনব্যাপী এ পূজায় প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও কাজ করবেন।
বার্তাবাজার/এসজে