ধর্ষকের বৃদ্ধ দাদার সাথে ধর্ষণের শিকার শিশুর বিয়ে

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধের সাথে জনৈক বখাটে যুবকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার শিশুর (১১) বিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় মাতব্বররা। আর ধর্ষককে শাস্তি হিসাবে দেয়া হয়েছে ১০ ঘা বেত। গত সোমবার ঘটনাটি ঘটলেও এতদিন চাপা ছিল।

জানা যায়, উপজেলার চর আমখাওয়া ইউপির বয়ড়াপাড়া গ্রামের একটি মহিলা মাদ্রাআয় পড়তো ভুক্তভোগী ওই শিশুটি। একই এয়াকার সুরমান আলীর ছেলে বখাটে শাহীন নানা প্রলোভনে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে কবিরাজি চিকিৎসার মাধ্যমে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানো হয়।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় গোপনে এলাকার মাতব্বর ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা মিলে সালিশ বৈঠকে বসেন। সেখানে ধর্ষক শাহীনকে ১০টি বেতের আঘাত মেরে দায়সাড়া বিচার কর হয়। আর শিশুটির ভবিষ্যৎ চাপিয়ে দেয়া হয় ধর্ষকের ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ দাদার উপর। পরে দাদা মহির উদ্দিনের সঙ্গে ভুক্তভোগী ১১ বছরের কিশোরীর বিয়ে দেন স্থানীয় মাতব্বরেরা।

সাত সন্তানের বাবা বৃদ্ধ মহির উদ্দিন ঠিকমত কথা বলতে পারেননা, চোখেও অল্প দেখেন। তার দুই স্ত্রী অনেক আগে মারা গেছেন। তিনি জানান, তার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় চর আমখাওয়া ইউপি সদস্য নাদু মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।

তবে ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন নাদু অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, মুরব্বিদের নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশে অনৈতিক কাজ করায় শাহিনকে ১০টি দোররা মারা হয়। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ষকের দাদার সঙ্গে কিশোরীটির বিয়ে দেওয়া হয়।

দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর