অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এবার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয়রা। সুদর্শন মুরাদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকবার নারী কেলেংকারীর অভিযোগ উঠলেও ছাত্রলীগের পদ পাওয়ার পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। একাধিক পরিবার দাবী করেছেন, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রবাসীর স্ত্রীদের সাথে পরকীয়া সর্ম্পক স্থাপন ছিল তার নৈমেত্তিক ব্যাপার।
মূলত, প্রবাসীর স্ত্রীদের সাথে সর্ম্পক স্থাপন করে সেখান থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিতেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জমি দখল, টাকার বিনিময়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার অভিযোগও বিস্তর। এমনকি পালিয়ে থেকেও মুলাদী থানার ওসিকে চাপের মুখে রেখেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে কারনে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি নন। মুলাদীর ওসি ফয়েজ উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে আসলে কি ঘটেছে। তদন্তে যারা দায়ী হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে কয়েকদিন আগে প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী ওই ইউপি মেম্বার কাজী মুরাদকে বিয়ে করার কথা বললে তিনি অস্বীকার করেন। আর তাতেই বেকে বসে মুলাদী থানায় ধর্ষণ মামলা দায়েরের জন্য যান সেই ইউপি মেম্বার। কিন্তু ওসি ফয়েজ উদ্দিন তাকে কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে নিবৃত করেন।
শেষে কাজী মুরাদের বাসায় গিয়ে উঠতে চান সেই নারী। শেষে লোকলজ্জার ভয়ে এবং ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে আত্ম গোপনে চলে যান কাজী মুরাদ। এদিকে সেই ইউপি মেম্বারের শ্বশুর থানায় অভিযোগ দেন, তার পুত্রবধূ ও ইউপি মেম্বার এবং কাজী মুরাদ তার ছেলের ৩৫ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছেন। এর মাধ্যমেই ফাঁস হয়ে যায় মুরাদের অপকর্ম।
এ বিষয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা কাজী মুরাদ জানিয়েছেন, গত ইউপি নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছিলাম। মনোনয়ন পাওয়ার ৪/৫ দন পরে সেই মনোনয়ন বাতিল করে দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। আমার স্থানে কামরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে চাল চুরি, গম চুরির মত বিভিন্ন দুর্নীতি করে বেড়াচ্ছে। সেই বিষয়ে আমি সরব হওয়ায় ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এসব দুর্নাম ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মূলত এসব অভিযোগ কোনটাই সত্য নয়।
বার্তাবাজার/অমি