ঢাকা-১৮ আসনে যখনই কোনো নির্বাচন শুরু হয়, তখন দলমত নির্বিশেষে সকল প্রার্থী যে মাজারটিতে দোয়া করে কার্যক্রম শুরু করেন সেটি হচ্ছে রাজধানীর উত্তরখানে অবস্থিত হযরত শাহ্ কবির (রা) এর মাজার। সকল ধর্ম, বর্ণ তথা অত্র এলাকার বাসিন্দারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন এই মাজারের মর্মকথা।
আনুমানিক ১৬০১ সালে তৎকালীন ভারতবর্ষের ইতিহাস ও মুসলিম ঐতিহ্যের তাৎপর্য প্রবাহমান এই মাজারের সাথে। ৩.৪০একর জমি জুড়ে এর অবস্থান। ২২/০৯/১৯৩৬ সালের তৎকালীন কলকাতার অবিভক্ত বাংলার নীতিমালা অনুযায়ী ৬৫৯ নং নথিতে লিপিবদ্ধ আছে। পুকুর, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ অপরূপ সৌন্দর্য্যের এক রত্নভান্ডার। এখানে এলে মনে অলৌকিক এক তৃপ্তিতে ভরে যায় বলে বিশ্বাস করেন সাধারণ মানুষ।
যদিও এই মাজার সকল কিছুর উর্ধ্বে থাকার কথা, তবুও একশ্রেণির সুবিধাবাদী লোকের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটায় এখন এসব মাজারকে করা হচ্ছে নিগৃহীত, কখনো মাজারকে বানানো হচ্ছে স্বার্থসিদ্ধির সূতিকাগার। ফলে শ্রদ্ধা ভক্তি কমে এসে, বেড়েছে স্বার্থপরতা।
ঘটনার সূত্রপাত অনেক আগেই। সরকারী এস্টেট হওয়ায় মাত্র সাত সদস্যের কমিটি দিয়ে চলতো মাজার ব্যবস্হাপনা। যার মেয়াদ ছিল দুই বছর। গত সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয় কমিটির মেয়াদকাল। কিন্তু নানান জটিলতা আর অনিয়মের কারণে নতুন কমিটি এখনো গঠন হয়নি। পূর্বের কমিটির কতিপয় সদস্যের অনিয়ম আর লুটপাটের ব্যবসায় ভাটা পড়ায় নতুন করে শুরু হয় অর্ন্তকোন্দল।
অপরদিকে, মসজিদের ভিতরে দেখা যায় অন্য একটি মাজার। যা হযরত শাহ্ কবির (রাঃ) এর স্ত্রী বিবি শাহ্ এর মাজার বলে ধারণা করা হয়। এতটা বছর ভেতরে এই মাজারটি থাকা অবস্থায় মুসল্লীরা নামাজ আদায় করেছে। কিন্তু সম্প্রতি মুসল্লীরা দাবী করছেন, মসজিদের ভিতরে মাজার থাকতে পারে না। তারা ভেতরের মাজারটি অপসারণের জোর দাবী করছেন। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে মাজারটি গুড়িয়ে দেয়। এই নিয়ে সকলের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এখানে যেকোনো সময়ে ঘটতে পারে ব্যাপক সংঘর্ষ।।

আবার, প্রমী গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হাসান খান ওরফে শহীদ (সিআইপি) দাবী করেন এই মাজারটি তারই পূর্বপুরুষদের। সেই মর্মে তিনি মাজার সংস্করণ ও নির্মাণ কৌশলে আরো সুসজ্জিত করার লক্ষ্যে বাজেট করেন প্রায় ৩/৪কোটি টাকা। আর শুরু করেন টাইলস ফিটিং, রং করণসহ যাবতীয় কাজ। এক পর্যায়ে কিছু ছোট-বড় গাছ কেটে ফেলেন এবং তা পুড়িয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন- হযরত শাহ্ কবির (রাঃ) এর উত্তরসূরী হিসেবে আমি মাজারের কাজ শুরু করি। সৌন্দর্য বর্ধনে কয়েকটি গাছ কেটে ফেলতে হয়। যেখানে এতটাকা খরচ করছি, সেখানে কয়েকটি গাছ কেটে ফেলায় সবার এত মাথা ব্যথা কেন- আমি বুঝি না।।
মসজিদের ভিতরে মাজার, গাছ কাটা, মাজারে পাগল টাইপ লোকজনের আনাগোনা, পূর্বের লোকজনের অনিয়ম এ সবকিছু মিলিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় ঘটতে পারে সংঘাত। বিষয়টি সমাধানের জরুরী পথ বের করা প্রয়োজন বলে জোর দাবী করছেন বিজ্ঞমহল। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাজারের সমস্যা সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণখান ও উত্তরখান জোনের সহকারী কমিশনার বিপ্লব গোস্বামী জানান, এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ওই মাজার ও মসজিদে বিবাদমান দু’পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে সম্মত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।
বার্তাবাজার/এসজে