সিলেটের কুমারগাঁওয়ে বিদ্যুতের ১৩৩/৩২ গ্রিড উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ২৪ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারনে পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে।
আজ বুধবার (১৮ নভেম্বর) সকাল থেকে পুরো নগর জুড়ে এ অবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন পুকুর-জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে ব্যবহারের জন্য নিতে দেখা গেছে স্থানীয়দের।
সরেজমিন দেখা যায়, আজ বুধবার সকালে লোকজন বালতি হাতে জেনারেটর চালিত বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, টিউবওয়েল ও পুকুরের খোঁজে বের হন। কেউ রাস্তায় ভ্যান-গাড়িতে করে কলস-বাতলি নিয়ে, আবার কেউ হাতে বাতলি-বোতল নিয়ে ছুটছেন পানির সন্ধানে। তাদের অনেকে ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও খাবার পানির সংকটে রয়েছেন।
নগরের বাসিন্দারা বলছেন, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে গতকাল মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল থেকেই পানি সংকট শুরু হয়েছে নগরজুড়ে। রাতে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। বেশির ভাগ বাসায় খাবার পানিও শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অনেককে দোকান থেকে ৫ লিটারের খাবার পানির বোতল কিনে আনতে দেখা যায়। সে সুযোগে ব্যবসায়ীরা পানির দাম বাড়তি রাখছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিসিকের তরফ থেকে জেনারেটরের মাধ্যমে পানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, নগরীতে পাম্পগুলোর একটি জেনারেটর চালিত। সেটি থেকে মেয়রের তত্ত্বাবধানে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরো নগরে পানির জন্য হাহাকার থাকলেও সবখানে পানি সরবরাহ করা সম্ভব না।
এ বিষয়ে জানতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমার মেরামতে গতকাল থেকেই কাজ করছেন ২ শতাধিক কর্মী। বুধবারের মধ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া যাবে কিনা, এ বিষয়ে এখনো কোনো আশার আলো দেখাতে পারছে না বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সিলেট।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি