সংসদে তত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক

তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংসদে পক্ষে বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক করেছে সরকার ও বিরোধী দল। এসময় বিএনপির দলীয় সাংসদ হারুনুর রশীদ অভিযোগ করে বলেন, সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার মূল উদ্দেশে ছিল সরকারকে সন্তুষ্ট করা।

তার এমন মন্তব্যের জবাবে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত করার জন্য সেই রায়টি হয়েছিল। এটা সরকারকে খুশি করার জন্য কোন রায় না।

সোমবার রাতে সংসদে এই বিতর্ক হয় সামুদ্রিক মৎস বিল-২০২০ পাসের সময়। বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী। বিলের দফায় সংশোধনী ও জনমত যাচাই-বাছাই করার প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে হারুনুর রশীদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কথা তোলেন।

হারুনুর রশীদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে অবজারবেশন দেয়া হয়েছিল, যে রায় দেয়া হয়েছিল সেগুলো কার্যকর করা হয়নি। পঞ্চম এবং সপ্তম সংশোধনী বাতিল করলাম অথচ ওই সময় যে সমস্ত কর্মকাণ্ড আজ পর্যন্ত ওই আইনের দ্বারা চলমান রয়েছে সেগুলোকে কিভাবে বাতিল করব? ওই আইনের কার্যকারিতা কি প্রয়োজন নাই? আজকে ওই সময়ের সমস্ত আইনকে অবৈধ করে দিলেন, তাহলে ওই সময় যে সমস্ত আইন দ্বারা কার্যকর হয়েছে।

এই বক্তব্যের জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘কেয়ারটেকার গভমেন্ট অবজারবেশনকে আমরা মানিনি কেন? এরকম একটা কথা বলতে চেয়েছেন। অবজারবেশনটা কতটুক ছিল? অবজারবেশন কোন ডিসিশন না, আর অবজারবেশনের অপশনটা পার্লামেন্টে দেয়া হয়েছিল পার্লামেন্ট যেটাকে যথার্থ মনে করেছেন, পার্লামেন্ট সে বিষয়টি করেছেন। সরকারকে খুশি করার জন্য পঞ্চদশ এবং সপ্তদশ সংশোধনী হয়নি।’

এছাড়া বিএনপির সাংসদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যের সময় বলেন, যখন কেউ ক্ষমতায় থাকে তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে যথেষ্ট ক্ষমতা দিতে খুব ভাল লাগে। কিন্তু ক্ষমতা থেকে যখন চলে যায়, তখন বোঝা যায় যে এই ধরণের ক্ষমতার ফল কী হতে পারে তা সবারই জানা আছে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর