সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নের টিল্লাবাড়ি এলাকায় এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত সেজানা নামের এক নারী ও তার ছেলেকে স্বামীর বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ ওঠেছে স্বামীর পরিবারের লোকজনের উপর।
জানা যায়, সেজানার স্বামী কাওছার আহমদ ছিলেন সৌদি আরব প্রবাসী। সেখানে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। কিন্তু আক্রান্তের বিষয়টি টের না পাওয়ায় দেশে ফিরে ভালোবেসে বিয়ে করেন চাচাতো বোন সেজানাকে। শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকায় নানা পরীক্ষার পর কাওছার এইডসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। ২০১২ সালে মারা যান কাওছার। পরে সেজনা জন্ম দেন এক ছেলে সন্তানের।
স্বামীর মৃত্যুর পরে ছেলে আব্দুর রহমান ইয়াছিরকে নিয়ে জীবনের কঠিন পথ পাড়ি দিতে থাকেন সেজনা। সিলেটে ও ঢাকায় একাধিকবার পরীক্ষায় ছেলেসহ তিনিও এইডসে আক্রান্ত বলে ধরা পড়েন। এর মধ্যে মৃত স্বামীর পরিবারের বিরূপ মনোভাব নতুন বিপদ হিসেবে হাজির হয় সেজনার সামনে।
তার শাশুড়ি, দেবর ও তার স্ত্রী মিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাকে (সেজনা) স্বামীর ভিটে থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমন অভিযোগ নিয়ে সোমবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তিনি।
তিনি জানান, ‘দানশীল মানুষের সহযোগিতায় কোনোরকমে বেঁচে আছি আমরা। কিন্তু স্বামীর ভিটে ছাড়া অন্য কোনো অবলম্বন নেই আমাদের। এই ভিটে থেকে তাড়াতে আমাদের ওপর আঘাত করা হয়েছে। আমার স্বামীর মা, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী মিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ভিটেমাটি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন আমাদের। নিরূপায় হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি আমি ও আমার ছেলে।’
তিনি বলেন, চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার পর তিনি দক্ষিণ সুরমা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ সেই অভিযোগের সঠিক তদন্ত করছে না। তদন্ত কর্মকর্তা ‘নির্যাতনকারী ও দখলবাজ চক্রের’ সঙ্গে ‘হাত মিলিয়েছেন’
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে সেজনা বেগমের দেবর ফয়ছল আহমদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। টিল্লাবাড়ি এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনকে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তিনি কল কেটে দেন।
দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আখতার হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তাবাজার/এসজে