রাতের আধারে কৃষকের ধান কেটে ফেললো ইউপি মেম্বার

মাগুরা সদরের পূর্ব বাড়িয়ালা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এনামুল হক মিয়া নামে আঠারোখাদা ইউনিয়ন পরিষদের এক মেম্বারের বিরুদ্ধে ৩৫ শতক জমির পাকা ধান কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রভাবশালী ওই ইউপি সদস্যের হুমকি ধমকিতে প্রাণসংশয়ে রয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক সাথিল আরব জোয়ারদার । স্থানীয় মেম্বারের এধরনের কর্মকান্ডে প্রকাশ করেছে এলাকাবাসি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিজ জমিতে কেটে ফেলা ধানগাছ দেখিয়ে কান্না করছে কৃষক সাথিল। তিনি জানান, পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত তার ১ একর ২০ শতক জমি আছে। এ জমির আয় থেকেই তার সংসার চলে। গত বছর তার বাবা হাসিবুর জোয়ারদার এর মৃত্যুর পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার একই গ্রামের এনামুল হক জাল কাগজপত্র দেখিয়ে হঠাৎ তাদের জমির মালিকানা দাবী করে।

এ ঘটনায় প্রেক্ষিতে একাধিকবার গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শালিস নিস্পত্তির চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে একাধিক মামলাও হয় আদালতে, সেসব মামলায় হেরে যায় এনাম মেম্বার।

কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হওয়ায় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে আইন ও শালিস না মেনে গায়ের জোরে তার জমি দখল করার চেষ্টা করে।

এর আগে কয়েকবার তিনি সাথিলের জমি থেকে জোরপূর্বক পাট ও অন্যান্য ফসল কেটে নিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সময়ে সাথিলকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয় এনামুল বাহিনী।

পূর্ব বাড়িয়ালা গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষকের কাছে তার ধান অনেকটা সন্তানের মত। রাতের আধারে পাকা ধানগাছের এ ধরনের ক্ষতি যারা করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য এনামুল হক মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয় নি।

মাগুরা সদর থানার ওসি জয়নাল আবেদিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

বার্তাবাজার/অমি/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর