নোয়াখালীতে ৫০ হাজার টাকায় এক শিশুকে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। শিশু বিক্রির ৪ দিন পর রোববার (১৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ৬ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার দক্ষিণ টুমচর গ্রামের আলাউদ্দিন (৪৫) ও নিলুফা বেগম (৪০) এবং সেনবাগ উপজেলার উত্তর শাহাপুর গ্রামের আবুল খায়ের (৬৫), জামাল উদ্দিন (৩৮), আবু তালেব (৩৮) ও সালমা আক্তার (২৫)।
পুলিশ ও শিশুটির মা জানান, ২ বছর ৯ মাস বয়সী নাজিমুল ইসলাম তামিম বেগমগঞ্জের মীরওয়ারিশপুর এলাকায় নানা-নানির সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তামিমের মা কর্মজীবী। ২০১৭ সালে তার প্রথম বিয়ে হয়। ২০২০ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। পরে পারিবারিকভাবে পুনরায় বিয়ে হয় তার। দ্বিতীয় বিয়ের পর আগের সংসারের ছেলে তামিমকে মা-বাবার কাছে রেখে বর্তমান স্বামীর সঙ্গে সংসার শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে তামিমের নানা-নানি তার ভরণপোষণে অক্ষমতা প্রকাশ করে আবু তালেব ও সালমার কাছে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে তামিমের মা সন্তানকে দত্তক দিতে অস্বীকার করেন। তামিমের নানা-নানি পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণামূলকভাবে তামিমের মায়ের কাছ থেকে তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। গত ১১ নভেম্বর তামিমের মা সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেগমগঞ্জে বাবার বাসায় আসেন। তখন আশপাশের লোকজন তাকে টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রির অপবাদ দেন। এ বিষয়ে তামিমের মা তার মা-বাবাকে জিজ্ঞেস করলে তারা ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তামিমকে বিক্রির কথা স্বীকার করেন। মা-বাবার কাছে ছেলের সন্ধান না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন তামিমের মা। বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ তামিমের নানা-নানিকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের উত্তর শাহাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘শিশু বিক্রির অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বার্তাবাজার/কে.জে.পি