আর কয়েক দিন পরই পুরোদমে শুরু হবে আমন ধান কেটে ঘরে তোলার কাজ। জেলায় পড়বে ধান কাটার ধুম। সেজন্যই ধান কাটার প্রধান হাতিয়ার কাস্তে তৈরিতে ব্যস্ত শেরপুরের কামাররা। কাস্তে কিনতে কৃষকরা ভিড় জমাচ্ছেন কামারদের দোকানে।
শেরপুর পৌর শহরের মোবারকপুরের কামারবাড়িগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। শুধু কামারবাড়িগুলো নয়, জেলার ৫টি উপজেলার হাট-বাজারে কামারের দোকানের হাতুড়ির খট্-খট্ শব্দ আর হাপরের গরম হাওয়ার ধুম পড়েছে।
পৌর শহরের আখের মামুদ বাজারে হামজা কামারের দোকানে চরশেরপুর হতে কাস্তে কিনতে আসা আব্দুল মুন্নাফ মিয়া বলেন, এই মৌসুমে একেকজন কৃষকের ধান কাটার কাজে দুই-তিনটি কাস্তে লাগে। আমি নতুন একটি কিনব আর পুরাতন দু’টি কাস্তে শান দিতে এনেছি।
মোবারকপুরের কামারবাড়ির রশিদ কামার, জামিল কামার, ফরিদ কামারসহ অন্যসব কামার ও তাদের সহযোগীরা চুটিয়ে কাজ করছেন। হাপর দিয়ে কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন। এরপর গনগনে আগুন থেকে টকটকে লাল লোহা এনে পিটিয়ে বানানো হচ্ছে কাস্তে, ফাল আর কোদাল।
শ্রীবরদী উপজেলার চিথলিয়া গ্রাম হতে আসা কৃষক আব্বাস আলির সঙ্গে কথা হয় কামারবাড়িতে। তিনি বলেন, আমাগোর তুলশিমালা ধান ত, কাটতে আরও সপ্তাহ খানেক লাগবে। ধান কাটার জইন্য কাস্তের খুব দরকার। ৩/৪টা কাস্তে বানানোর লাইগা আইছি। সিরিয়ালই পাইতাছি না।
একটি নতুন কাস্তে তৈরির জন্য কামাররা ৫০ থেকে ৮০ টাকা নেন। পুরোনো কাস্তে মেরামত করতে নেন ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর নতুন একটি কোদাল তৈরি করতে নেন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। ফালের জন্য নেন প্রায় ২০০ টাকা।
নকলা বাজারের সিরাজ কামার বলেন, ‘এহন কয়লা পাওয়া যায় কম। তাও যা পাওয়া যায়, ট্যাহা দেশি। তাই কাম করা খুব কষ্ট অইতাছে।
উল্লেখ্য, এ বছর জেলায় ৯২ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। ৯১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। এবার জেলায় আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি