দেশীয় মাছে স্বস্তি, আগুন সবজির বাজার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় শীত আসতে না আসতে প্রচুর পরিমাণে শিকার হচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। এতে বাজারেও দেশী প্রজাতির মাছে সরবারাহ অনেকটা বেশি। ইলিশ মাছ সরবারাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারের দেশি মাছের দাম চড়া থাকলেও এখন অনেকটাই ক্রেতাদের হাতের নাগালে। তাই পছন্দের ভিন্ন প্রজাতির স্বাদের দেশি মাছ উৎসাহ নিয়ে কিনছেন ক্রেতারা। সেই সাথে ক্রেতা বেশি হওয়ার কারণে লাভবান হচ্ছেন মাছ বিক্রেতারাও।

তবে সরবরাহ বেশি না হওয়ার কারণে দর-দাম কমছেই না সবজির। আস্তে আস্তে শীতকালীন সবজির আসা শুরু করলেও অনেক সবজির দাম অনেকটা বেশি। এদিকে পেঁয়াজের দাম অস্থিতিশীল থাকার কারণে ক্রেতাদের কষ্ট যেন ছাড়ছে না পিছু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের আনন্দ বাজার, ফারুকী বাজার, মেড্ড বাজার, কাউতলী বাজার, বৌ-বাজার ঘুরে দেখা যায়, পছন্দের দেশি মাছ ক্রয় করতে হুমরি খেয়ে আছে ক্রেতাগণ। ডালা ভর্তি শিং, কৈ, মাগুর, টেংরা, টাকি, শোল, বোয়াল, পুঁটি, গড়ার, খালিসা, ভেদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ উঠছে বাজারগুলোতে। জাতের ভেদাভেদ রেখে দেশি মাছের কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৬০০ টাকা। বাজারগুলোতে সবসময় সুস্বাদু এই দেশি মাছগুলো পাওয়া যায় না। তাই মৌসুম ব্যাতিত এই দেশি মাছের আনাগোনা বাজারে কম থাকলেও দাম থাকে প্রচুর চড়া। তখন ২৫০ থেকে শুরু করে ৭০০-৭৫০ কেজিতে দেশি মাছ বিক্রি হয়।

শহরের আনন্দ বাজারের মাছ ব্যবসায়িক রইস উদ্দিন বলেন, শীত আস্তে আস্তে ঢুকতাছে (ঢুকছে)। তিতাস নদীর ফানিসহ (পানি) অন্যান্য হাল (খাল)-বিল, পুকুর-ডোবা শুকাই গেছেগা। ইলিগা (এই জন্যে) প্রচুর দেশি ধরা পড়তাছে। আর বাজারেও অনেক মাছ আইতাছে (আসতেছে)। মাঝ খান দিয়া ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ কইরা দিলে তহন (তখন) দেশি মাছের দাম মেলা (অনেক) ছিল। অহন (এখন) কম হইয়া (হয়ে) গেছে। তাছাড়া নাসিরনগর, আখাউড়া, সরাইলসহ হাওর এলাকা থেইক্কা (থেকে) অনেক মাছ আইতাছে। ইলিগা (এই জন্য) মাছেরও কম দাম আর ব্যাফারিরাও (ব্যাবসায়ীরাও) ল-স (লোকসানে) নাই।

বাজারগুলোতে টেংরা ও ছোট ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে। যা কয়েকদিন আগে ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। পুটি মাছ ৩৫০ টাকা থেকে কমে এখন ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে কম দামে। প্রতি কেজি ভেদা ৩০০ টাকা ও মলা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় শিং ৩৫০ টাকা, ছোট শিং ৩০০ টাকা ও কৈ ৩২০ টাকা, বড় শোল ও গজার ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছের সরবরাহ বৃদ্ধিতে চাষের মাছ পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়ার দাম কেজিতে ১৮০ টাকা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আনন্দ বাজারে মাছ ক্রয় করতে আসেন এক সরকারী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, ৩২০ টাকা দরে তিনি কৈ মাছ কিনেছেন। সব সময় দেশি মাছ কিনতে পাওয়া যায় না আবার দামও প্রচুর থাকে তাই এখন দাম কম থাকায় প্রতিনিয়ত বেশি করে দেশি প্রজাতির মাছ বাসায় কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

সারা বছরই চাষের মাছ খেতে হচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে দেশি মাছে স্বাদ গ্রহণ করা অনেকটা প্রয়োজন। এদিকে মাছের দাম কম থাকলেও কমছে না সবজির দাম। শীতের আভাস পড়লেও শহরের সবজির বাজারগুলো নেই ক্রেতাদের হাতের নাগালে। শহরের বাজারগুলোতে সিম মিলছে কেজিতে ১৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, ধনিয়া পাতা ২৩০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, বেগুণ ৮০ টাকা, ফুলকপি ১২০ টাকা, পেপেঁ ৫০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, তিতা করলা ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ক্রয় করতে আসা শারমীন বেগম বলেন, খুবই অল্প অল্প করে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছি। সবজির দামের এখনো কোনো তফাত নেই। আগে তো দেখেছি শীতের শুরুতেই সবজির দাম অনেকটা হাতের নাগালে থাকতো কিন্তু এ বছর তা পুরোপুরি উল্টো। দেশি প্রজাতির মাছ নিচ্ছি কিন্তু সবজির দামের কারণে হতাশায় পড়ে যেতে হয়। সবজি ছাড়া কি মাছ ভাল লাগে!

স্বল্প আয়ের পেশাদার বাছির মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সবজির বাজারের দিকে যাওয়াই যাচ্ছে না। বিগত অনেক দিন যাবৎ ডিম আর ডাল দিয়ে দিন পাড় করছি। সবজির দাম নাগালে আনার জন্য প্রশাসনের কিছু একটা করা দরকার।

সবিজর দামের এক প্রশ্নে জবাবে ফারুকী বাজারের সবজি বিক্রেতা দানা মিয়া জানান, ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও জমিতে পানি উঠার কারণে বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ অনেকটা কম। তবে শীতের সবজির সরবরাহ বেড়ে গেলে দামও হাতের নাগালে চলে আসবে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর