শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, দিশেহারা মৎস্যজীবী আব্দুল হাই

পূর্ব বিরোধের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জাঙ্গালপাড়া গ্রামের মসজিদ কমিটি কর্তৃক ইজারাকৃত জলাশয়ে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার রাতের কোন এক সময়ে বিষ দেয়ার ফলে বিভিন্ন জাতের দেশীয় মাছ মরে পানিতে ভেঁসে ওঠে। এতে প্রায় তিন লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলাশয়টির ইজারাদার আব্দুল হাই। এ ঘটনার পর আব্দুল হাই শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি জলাশয়টি এক বছরের জন্য গ্রামের মসজিদ কমিটির কাছ থেকে দুইলক্ষ বিশ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নেই। বর্ষা মৌসুমে ছয় মাস পানি থাকার কারনে দেশীয় মাছ বিক্রি করি। বর্ষা চলে গেলেও জলাশয়ে পানি থাকার কারনে রুই, কাতল, সিলভার, তেলাপিয়া মাছ চাষ করি। গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার প্রতিপক্ষ আনোয়ার, জনি, আমির হামজা, বিল্লাহসহ অন্যরা বিষ দিয়ে সব মাছ মেরে ফেলে। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার জলাশয়ের সব মাছ মরে পানিতে ভেঁসে ওঠছে।

তিনি আরো বলেন, জলাশয়টি ইজারা নেয়ার পর থেকে তারা প্রায় সময় জোর করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। গত ০৬ নভেম্বর আবার মাছ ধরতে গেলে আমি বাঁধা দিলে কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করে। পরে আমি ০৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ১১জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করি। মামলা দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার জলাশয়ের সব মাছ বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

জাঙ্গাল পাড়া গ্রামের মসজিদ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামের আটটি পরিবার ৩৩৬ শতাংশ জলাশয়টিকে মসজিদের নামে দান করে গেছেন। এর আয় দিয়ে মসজিদ পরিচালনা করা হয়। যারা বিষ দিয়ে জলাশয়ের মাছ গুলো মেরে ফেলেছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পরিদর্শক তদন্ত মো: শাহজাহান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্তাবাজার/জুলভার্ণ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর