বৃদ্ধাশ্রমে ল্যাট্রিনের পাশে খোলা আকাশের নিচে বৃদ্ধের আবাস!

নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরখামাটখালি এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের চরে মাতৃছায়া নামে একটি বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠেছে। যেখানে মাতৃত্বের স্নেহ ও ছায়া কোনটাই নেই।

লোকালয় থেকে প্রায় অনেকটা বিচ্ছিন্ন চরে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমটিতে ল্যাট্রিনের পাশে মাথার ওপরে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে চাউনির মধ্যে রোদ-বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে রয়েছে কয়েকজন বৃদ্ধের আবাস। দীর্ঘদিন ধরে কথিত এই বৃদ্ধাশ্রম চালু থাকলেও প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই।

ছবি: বার্তা বাজার।

জানা গেছে, বৃদ্ধাশ্রমটি গড়ে তুলেছেন বীরকামটখালী গ্রামের মরছব আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাস্টারোলের গেইটম্যান। বাড়িতে সহায় সম্পদ না থাকলেও চরে ৮ শতক জমি কিনে প্রায় ৪ শতক জমির ওপর ঘরে তুলেছেন বৃদ্ধাশ্রম। টিন দিয়ে অর্ধঘেরা এই বৃদ্ধাশ্রমে রয়েছে প্রায় ১৪ হাত লম্বা একটি চালাঘর। সেখানে পাঁচজন বাসিন্দা গাদাগাদি করে বসবাস করছেন।

সরজমিনে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে ল্যাট্রিনের পাশেই একটা চৌকীতে শুয়ে ছিলেন বাক্ প্রতিবন্ধী একজন। নাম জিজ্ঞাসা ছাড়াও কাছে গিয়ে কুশলাদি জানতে চাইলে তিনি আ আ করে কিছু বলতে চাইলেও বলতে পারেননি। আর এদের মধ্যে দুই নারী মানসিক প্রতিবন্ধী। তাদের সাথে কথা বললে স্বামীর কাছে পাঠাতে অনুনয়-বিনয় করেন। এখানে কে এনেছে তা কেউ বলতে পারছেন না।

তবে তিনি যেতে চাইলেও এখন আর যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বাক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ হযরত আলীর বয়স ৬৫ কি ৭০ হবে। কথা বলতে পারেন না। শুধু চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ে। ল্যাট্রিনের পাশেই অসার শরীর নিয়ে আধভাঙ্গা চৌকিতে বসে কোনো মতে নিজের আব্রু ডেকে রাখা হয়েছে অপরিচ্ছন্ন একটি চাঁদর দিয়ে।

মাথার ওপরে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে চাউনি দেওয়া হলে রোদ-বৃষ্টি ফিরে না। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে গত প্রায় এক বছর ধরে কথিত বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করছেন। পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার চরমাটিভাঙা গ্রামের কামরুজ্জামান (৫১) থাকেন এ বৃদ্ধাশ্রমে।

তিনি জানান, গ্রামের বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। তিনি টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের হুইসাল শুনে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাঁর দেহের বা পাশ অবশ হয়ে পড়ে। এক নারীর সহায়তায় তিনি এই বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই পেয়েছেন। বাড়ির লোকজন যদি খোঁজ পায় তাহলে তাঁকে এখান থেকে নিয়ে যাবে। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ আমাকে ছাড়তে চাইছেন না বলে অভিযোগ করেন।

এলাকার লোকজন জানান, ভিতরে কি হয় তারা কেউ কিছু জানেন না। বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক এলাকার কারও কোনো পরামর্শও নেন না।

বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের কয়েকজন চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি এ কাজটি হাতে নিয়েছেন। তবে কারা এই চিকিৎসক তা তিনি বলতে নারাজ।

যারা এই বৃদ্ধাশ্রমে আছেন তাঁদের কিভাবে আনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন হাসপাতাল ও রাস্তাঘাট থেকে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা ইনসান আলী বলেন, গত এক বছর আগে চরবেতাগৈর ইউনিয়ন থেকে বৃদ্ধাশ্রম করার অনুমতির চেয়ে কয়েকজন এসেছিল। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে কোন বৃদ্ধাশ্রম সরকারের নিতিমালায় নেই। তাই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি শুনেছি তাঁর একটি বৃদ্ধাশ্রম করেছে।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর