নাম তার মফিজ উদ্দীন। শুরুটা তার থানার দালাল হিসেবে পরিচিতি হলেও পরবর্তীতে পারিবারিক ভাবে মাদক কারবারে জড়িয়ে অল্প দিনের মধ্যেই হয়ে উঠে কোটিপতি। কক্সবাজার শহরে গড়ে তুলেছে বহুতল সুরম্য অট্টালিকা। আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে কখনো সাংবাদিক আবার কখনো সম্পাদক পরিচয়ে বিলাস বহুল গাড়িতে হাকিয়ে বেড়ায়। সম্পদের পাহাড়ের আয়ের উৎস জানতে চাওয়াতে প্রতিবেদকে দেখে নেয়ার হুমকি।

স্থানীয়দের মতে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার ইয়াবার ডিলার খ্যাত ইসমাঈল মাষ্টারের ছেলে মফিজ উদ্দীন। টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে বিভিন্ন মাদক কারবারীদের হয়ে তদবির বানিজ্যের মাধ্যমে তার দালালি পেশা শুরু। এভাবেই মাদক কারবারীদের সাথে আতাত করে পরবর্তীতে পারিবারিক ভাবে সিন্ডিকেট করে মাদক কারবার শুরু করে। ২০১০ সালের দিকে আটক হয়ে দ্বীর্ঘদিন হাজতবাস শেষে বেরিয়ে এসে ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ে বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, কক্সবাজার শহরে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের সুরম্য তিন তলা অট্টালিকা। চসে বেড়ায় প্রাইভেট কারগাড়ীতে হাকিয়ে। আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে কখনো সিনিয়র সাংবাদিক, কখনো সীমান্ত বিডি নিউজ নামক একটি নাম সর্বস্ব নিউজ পোর্টালের সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বেড়ায়। দুরপাল্লার যাতায়াতে বিমান নিয়ে চলাফেরাটা তার নিয়মিত লাইফ স্টাইল। তার সম্পদ দেখে রিতিমত অবাক নিজ এলাকার জনসাধারণ।

গত বছর ২রা নভেম্বর ২৪ হাজার ইয়াবাসহ ঢাকা থেকে র্যাবের হাতে আটক হয়ে তার সহোদর মো. শাহনেওয়াজ (২২) এখনো কারাগারে। র্যাব সূত্র মতে, শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী ও সূত্রাপুর থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে মাষ্টার ইসমাঈল ও তার স্ত্রী নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ইয়াবার চালানসহ আটক হয়েছিলো।
মফিজের এসব সম্পদের আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, নিজেকে একজন বৈধ ব্যবসায়ী এবং মাদকের সাথে তার কোন রকম সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবী করেন। কিন্তু কোন বৈধ ব্যবসায় অল্পদিনে এত কিছুর মালিক হলেন, এমন প্রশ্নে উল্টো গালমন্ধ করে হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেন। আধ ঘন্টা পরে ০১৬৩২৭৯৫৩৯৬ ও ০১৩১২১৩১২২৫ নাম্বার থেকে তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে, সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণ নাশের হুমকি দেন প্রতিবেদককে। পরে অবশ্যই মুফিজ নিজের আচরনের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সৌমেন মন্ডল ও টেকনাফ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সিরাজুল মুস্তফা বার্তা বাজারকে জানান, ছদ্মবেশী অনেক মাদক কারবারী এখনো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। তার ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ নেয়া হবে। মাদক সংশ্লিষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেলে ডিএনসি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
কক্সবাজার সদর থানার (ওসি) মুনির উল গিয়াস জানান, তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেয়া হবে। মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমান পেলে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবী দুদকের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসবে মফিজ ও তার পরিবারের কাড়ি কাড়ি টাকার উৎস ও অপ্রকাশিত অনেক গোপন রহস্য।