সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অযোগ্য সলিমগঞ্জের সড়ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের সলিমগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কে। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে যেন খাল বা ছোট জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সলিমগঞ্জ কলেজ রোড, বাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক, সলিমগঞ্জ বাজার সদর সড়ক এলাকায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত পিচ-সুরকি উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে সড়কটির অধিকাংশ স্থানে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীসহ যানবাহন চালকদের। প্রতিদিনই ভাঙ্গা গর্তে যানবাহনগুলো পড়ে ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এসব গর্তের কারণে এ সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ছবি: বার্তা বাজার।

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সলিমগঞ্জ বাজারের স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে সলিমগঞ্জ ও তার আশপাশের গ্রামের লোকজনই নয়, পার্শ্ববর্তী বাঞ্চারামপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম থেকেও প্রতিদিন হাজারও মানুষ নিত্য দিনের কেনাকাটাসহ নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করে থাকে। সেই সঙ্গে এলাকার স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। দীর্ঘদিন সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় যানবাহনের পাশাপাশি জনসাধারণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সলিমগঞ্জ বাজারের সদর সড়ক উচু না করে নির্মাণ ও সড়কর দুই পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সলিমগঞ্জ কলেজ রোড, বাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তিনরাস্তার মোড়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টির কারণে পানি জমে খালে পরিণত হয়ে যায়। সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। পায়ে হেঁটে তো দূরের কথা ঝুঁকি নিয়ে রিকশা ও ইজিবাইজক দিয়েও চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে সলিমগঞ্জ বাজারে আসা জনসাধারণের ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের।

এই সড়ক পথে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সলিমগঞ্জ বাজার হয়ে বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার দিয়ে ঢাকার সাথে সংযোগে প্রতিদিন হাজারও মানুষের যাতায়াত করে থাকেন। তাই জন দুর্ভোগ লাঘবে বেহাল রাস্তাগুলোর সংস্কার ও মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী জনগণ।

অপরদিকে সলিমগঞ্জ বাজার থেকে শ্যামগ্রাম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। মেরামতের অভাবে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে স্কুল কলেজের কোমলমতি শিশু কিশোররা। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রচন্ড জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় সড়কটিতে।

এরই মধ্যে কোথাও কোথাও ভেঙে ছোট খাট গর্ত হয়েছে সড়কটির। ফলে এর অনেক অংশই এখন চলাচলের উপযোগী নয়। এক কথায় সড়কটি এখন যেন মরণফাঁদ। রাস্তার অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-খাটো গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনগুলোকে চলতে হচ্ছে হেলেদুলে। ফলে ঘটছে দূর্ঘটনা।

এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার রিক্সা, ট্রাক, প্রাইভেট কার, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল, ভটভটি, ভ্যান, সাইকেল, বিভিন্ন কোম্পানীর মালবাহী গাড়িসহ অফিসিয়াল যানবাহন চলাচল করে। এই রাস্তাটি খুব দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

রাস্তা ভাঙ্গার কারণে প্রায় প্রতিদিনই লোকজন বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিকল্প সড়ক না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শহর সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত যাত্রীরা চলাচল করছেন। রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে নবীনগর উপজেলা সদরের সাথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তাটি সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হবে।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর