বগুড়ায় এনজিওর কিস্তির ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে একই পরিবারের শিশুসহ ৩ জন গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে। এদের মধ্য বুধবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩ টায় বুলুবুলি বেগম (২০) নামের একজন মারা গেছেন। হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে ৫ বছর বয়সের শিশু ও শিশুর বাবা।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে বগুড়া সদরের গোকুল নওদাপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে তারা গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন।
এলাকাবাসী জনায়, ওই এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে মহিদুল ইসলাম দিনু (২৬) শ্রমিকের কাজ করতো। করোনার কারণে ঠিকমতো কাজ পাচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে সে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে মুদি দোকান দেন। সেই দোকানও ঠিকমতো চলছিনা।
এদিকে এনজিও থেকে কিস্তির জন্য চাপ দিতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে মহিদুল ইসলাম ও তার তিন মাসের গর্ভবতী স্ত্রী বুলবলি বেগম ও একমাত্র শিশু কন্যা মেঘনাসহ এই তিনজন আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে গ্যাস ট্যাবলেট খান।
বিষয়টি প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বুলুবুলি বেগমের মৃত্যু হয়।
মহিদুল ইসলাম দিনুর মা মর্জিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে তার ছেলে ও নাতনি। তিনি বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পারায় এনজিওর লোকজন প্রচণ্ড চাপ দিতে থাকে। তাদের চাপ সইতে না পেরে মহিদুল স্ত্রী সন্তান নিয়ে আত্মহত্যা করার জন্য গ্যাস ট্যাবলেট খায়।
বগুড়া মেডিক্যাল ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল আজিজ মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বার্তাবাজার/এসজে