গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের বি-আমতলী সরস্বতীপুর সীমান্তে মাদককারবারীদের ধরতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) র্যাব-১৩ এর দুই সদস্যকে আটক করে করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার দিন রাত ৯টায় দুই দেশের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই র্যাব সদস্যকে ফেরত দিয়েছে বলে জানা গেছে।
আটকৃতদের মধ্যে ছিলেন র্যাব-১৩ দিনাজপুর সিপিসি-১-এর সহ-অধিনায়ক (এএসপি) শ্যামল চং ও কনস্টেবল আবু বকর সিদ্দিক।
গতকাল সরস্বতীপুর সীমান্তের স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বি-আমতলী সরস্বতীপুর সীমান্তে সমজিয়া মন্ডলপাড়া এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেলযোগে সিভিল পোশাকে অভিযানে যায় ৫ জন র্যাব সদস্য। দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা অভিযানে নামে।
এক গ্রুপে তিন জন, অন্য গ্রুপে দুইজন ছিল। অভিযানের একপর্যায়ে তারা ভুল করে ভারতের একটি গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে ৩ জন র্যাব সদস্য ভারতীয় নাগরিক ইসরাফিলের ছেলে মিলনকে আটক করে। এ সময় মিলন চিৎকার শুরু করলে মোশাররফ মাস্টার ও হিরোসহ কয়েকজন মিলনকে ছিনিয়ে নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সেখানে থাকা ৩ জন র্যাব সদস্য এক রাউন্ড গুলি ছুড়ে কৌশলে পালিয়ে আসে। গুলির শব্দ শুনে অপর প্রান্তে থাকা দুই র্যাব সদস্য সঙ্গীদের উদ্ধারে এগিয়ে যায়। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে এসে বিএসএফ সদস্যরা স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ওই দুই র্যাব সদস্যকে উদ্ধার করে তাদের সমজিয়া ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজিবি পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফের কাছে চিঠি পাঠায়। রাত ৯টায় বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে র্যাব সদস্যকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর র্যাব-১৩ এর কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন মামুন বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বি-আমতলী সরস্বতীপুর সীমান্তে সমজিয়া মন্ডলপাড়া এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেলযোগে সিভিল পোশাকে অভিযানে যায় র্যাবের একটি দল। সেখানে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গোন্ডগোল শুরু হলে র্যাব সদস্যরা ভারতীয় একজনের বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে সেখান থেকে বিএসএফ এর সদস্যরা এসে আমাদের দুজন র্যাবের সদস্যকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে রাত ৯টায় বিজিবি-বিএসফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই র্যাব সদস্যকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। তাদের কোন ধরণের আঘাত কিংবা টর্চার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।’
বার্তাবাজার/কে.জে.পি