দেশের উত্তরের হিমালয়ের কোলঘেঁষা সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে শীত অনুভূত হতে শুরু করেছে। ভোরের দিকে কিছুটা পড়ছে কুয়াশা আর শীতের আগমনে ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে দিন ও রাতের তাপমাত্রা।
দিনের বেলায় সূর্যের প্রখর উপস্থিতিতে তাপমাত্রা অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও রাতে হালকা কুয়াশার প্রভাবে তাপমাত্রা কমছে। ফলে রাতে শরীরে লেপ-কাঁথা কিংবা কম্বল জড়াতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষজন। এতে শীতের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে জেলার ৯ উপজেলার মানুষকে। প্রতি বছর অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহে এ জেলায় শীতের আগমন ঘটলেও এবার কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়েছে শীত।

স্থানীয়রা বলছেন, হিমালয় থেকে আসা ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে এ বছর দ্রুত শীত শীত অনুভব হচ্ছে। দিনের বেলা বেশ গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাতভর হালকা বৃষ্টির মত টুপটুপ করে কুয়াশা ঝরতে থাকে। বিশেষ করে ধানের শীষে কুয়াশা বিন্দু বিন্দু জমতে দেখা যায়। সকালে যারা ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটাচলা করেন কুয়াশার কারণে তাদের কাপড় ভিজে যায়।
আর শীতের আগমনে সন্ধ্যা থেকেই রাস্তার পাশে বসছে, ডিম সিদ্ধ ও ভাপা পিঠার দোকান। ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে জেলার মার্কেটগুলোতেও। সেখানে শীতের পোশাক কেনাও শুরু হয়েছে।
কুড়িগ্রামের কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী গতকাল সোমবার (০৯ নভেম্বর) সকাল ৮ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) ভোরবেলা দেখা গেছে, হালকা কুয়াশায় ঢেকে গেছে রাস্তা-ঘাট। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস-ট্রাকগুলো গুলো হেডলাইট চালিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে। অনেকেই হালকা গরম কাপড় গায়ে দিয়ে নিজ নিজ কাজে বের হচ্ছেন।অন্যদিকে বিকেলের পরও জেলায় শীত শীত অনুভূত হচ্ছে।
জেলা সদরের সুজামের মোড়ের চায়ের দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম জানান, “দুদিন থেকে সন্ধার পর আমার শীত শীত লাগছে। এর ফলে হালকা গরম কাপড় গায়ে দিয়ে দোকানে কাজ করতে হচ্ছে আমাকে।”
তবে শীতের আগমনের কারণে গরম পোশাকের দোকানে ভীড় ঘটলেও, লেপ তোসকের দোকানগুলোতে এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। অনেক গরম কাপড় ব্যবসায়ী বলছেন শীতের লেপ-তোসক বানানেরা কাজ শুরু হতে আরও ২-৩ সপ্তাহ লাগবে।
এদিকে সকাল ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ঢাকাগামী এক যাত্রী জানান, “গত বছর এমন সময়ে কোন কুয়াশা লক্ষ্য করিনি। এ বছর দুদিন ধরে সকালে বাইক নিয়ে বের হবার সময় হেডলাইড জ্বালিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। তাছাড়া হালকা বাতাসের কারণে ঠান্ডাও অনুভুত হচ্ছে।”
কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের এক পর্যবেক্ষক মুঠোফোনে বার্তা বাজার’কে জানান, ‘দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমে শীতের তীব্রতা বাড়বে।
বার্তাবাজার/অমি