সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় শিশু আদালতে (২০১৩ সালে শিশু আইনের অধীনে) বিচার চেয়ে আসামি মারুফ রেজার করা আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ (নটপ্রেস রিজেক্ট) করেছেন হাইকোর্ট।
আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে আদেশ দিয়েছেন। আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী দেওয়ান আবদুন নাসের।
এর আগে, গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিভিশন আবেদন করা হয়।
আসামির আইনজীবী দেওয়ান আবদুন নাসের জানান, সগিরা হত্যা মামলার বিচার শিশু আদালতে স্থানান্তর করার আবেদন করা হলে গত ৭ সেপ্টেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালত তা খারিজ করেন। এরপর হাইকোর্টে এ আবেদনটি করা হয়।
আসামির আইনজবীর যুক্তি ১৯৭৪ সালের চিলড্রেন অ্যাক্ট আইনটি রহিত করে ২০১৩ সালে ‘শিশু আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার তারিখে অনিষ্পন্ন কার্যাদি, যতদূর সম্ভব এই আইনের বিধান অনুসারে নিষ্পন্ন করতে হবে।
এক্ষেত্রে আইনজীবী যুক্তি হলো, ‘সগিরা মোর্শেদ হত্যার সময় আসামি মারুফের বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস ২৬ দিন। তখন তিনি আসামি হননি। তিনি আসামি হয়েছেন চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি। তাই তার ক্ষেত্রে শিশু আইন ২০১৩ কার্যকর হবে। এই আইনে শিশুর বয়সসীমা ১৮ বছর রয়েছে। আর বিদ্যমান এই আইনে বলা হয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, আদালতের রায় বা আদেশে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অপরাধ সংঘটনের তারিখই হইবে শিশুর বয়স নির্ধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক তারিখ।’
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সাগিরা মোর্শেদ সালাম ১৯৮৯ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যান। বিকেল ৫টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী রোডে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতে থাকা স্বর্ণের চুড়ি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি দৌড় দিলে তাকে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথেই মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ওইদিনই রমনা থানায় মামলা করেন তার স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী। পরে মিন্টু ওরফে মন্টু ওরফে মরণ নামে একজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন- নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান এবং ভাড়াটে খুনি মারুফ রেজা।
বার্তাবাজার/অমি