এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুতে হত্যা মামলা দায়ের

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আনিসুল করিম শিপনের (বিপি-৮৪১৩১৫৯৪৩৬) মৃত্যুকে ‘হত্যা’ বলছেন সহকর্মীরা। ছুটি নেওয়ার একদিনের মাথায় এবং হাসপাতালে পৌঁছার কিছুক্ষণের মধ্যে হাসপাতাল কর্মচারীদের মারধরের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর সেই দাবী আরও জোরদার হচ্ছে।

ট্রাফিক কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার বলেছেন, ভিডিওতে যা দেখা গেছে তারপর আর কোনভাবেই বলার সুযোগ নেই এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, এটি স্পষ্টতই হত্যাকান্ড। আমরা মর্মাহত এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য। আমরা সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

বরিশাল মেট্রো ট্রাফিকের আরও কয়েকজন সার্জেন্ট জানিয়েছেন, তারা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার আনিসুল করিম নেই। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি হাসপাতালে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তাহলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কি অবস্থায় রয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

ওদিকে আনিসুর করিমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খানসহ পুরো মেট্রোপলিটন পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সহকারী কমিশনারকে হত্যায়’ জড়িতদের বিচার চেয়ে বিভিন্ন পোস্ট, কমেন্ট করছেন নেটিজেনরা।

আনিসুলি করিমের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তার আচার-আচরণে কখনোই এমন কিছু স্পষ্ট হয়নি যা তাকে অস্বাভাবিক বুঝায়। এরপর নিজে নিজে অসুস্থবোধ করলে ৮ নভেম্বর (রবিবার) দশ দিনের নৈমেত্তিক ছুটি গ্রহণ করেন। তার পিতা ফাইজউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে তিনি ঢাকায় যান এবং ৯ নভেম্বর (সোমবার) প্রথমে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে মারধরের শিকার হয়ে আনুমানিক ১২টার দিকে শারীরিক অবস্থার গুরুত্বর অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানের চিকিৎসক আনিসুল করিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আনিসুর করিমকে ভর্তির সময়ে মাইন্ড এইড হাসপাতালে মারধরের যে ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে তাতে ‘হত্যা’ দাবী করছেন অনেকেই। এ ঘটনায় সর্বশেষ খবর পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। অদাবর থানায় আজ (১০ নভেম্বর) সকালে পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন ওসি শহীদুজ্জামান।

আনিসুল করিমের ভাই রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পারিবারিক অশান্তিতে তিনি (আনিসুল করিম) মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন সোমবার তার জন্য কাউন্টারে ভর্তি ফরম পূরণের সময় কয়েকজন কর্মচারী আনিসুল করিমকে দোতলায় নিয়ে যান। কিছু সময় পরই জানানো হয়, আনিসুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। গিয়েই দেখে মনে হয় আনিসুল বেচে নেই। পরে হৃদরোগ ইনিস্টিটিউটে নেওয়া হলে চিকিৎসক ব্রড ডেড অর্থাৎ আগেই মৃত্যু হয়েছে জানান।

রেজাউল করিম জানান, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সমস্যা ছিল। কিন্ত তা তত প্রকট ছিল না। কিন্তু এখানে চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো আমার ভাইকে হারালাম। আমি এর বিচার চাই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী আনিসুলকে জোর করে এক কক্ষে ঢোকাচ্ছেন। সেখানে ছয়জন তাকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেছেন। আরও দুই জন তার পা চেপে ধরেছেন এবং মাথার দিকে থাকা দুই জন কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করছেন।

হাসাপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি কাপড় দিয়ে আনিসুলের দুই হাত বাঁধা হয়। চার মিনিট পর আনিসুলকে যখন উপুড় করা হয়, তখন তার কোনো সাড়া-শব্দ ছিল না। একজন কর্মচারী তার মুখে পানি ছিটালেও সাড়া দিচ্ছে না আনিসুল।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর