সিরাজগঞ্জ শহরজুড়ে মানুষ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি নামকে এখন নিজেদের মনে করে, সংগঠনটির নাম ‘ক্লিন সিরাজগঞ্জ গ্রীন সিরাজগঞ্জ’। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আশিক আহমেদ তার মানবিকতার গল্প শোনাচ্ছেন এম এ মালেক-
কোনো ধরনের অনুদান ছাড়াই সংগঠনটি প্রতিবছর বৃক্ষ রোপন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান আর্বজনা মুক্ত করণ, মেডিক্যাল ক্যাম্প, কম্বল বিতরণ, মানবতার দেয়াল, প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার বিতরণ ও ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের মাধ্যমে পুরো জেলায় সাড়ে ৪ হাজার রক্তদান, পুরো শহরে ডেঙ্গুরোগের প্রতিষেধক, করোনায় ২০ হাজারের বেশি অসহায় পরিবারকে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছে। আশিক আহমেদ তার উদ্যোগে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে কাজগুলো করেন। এ ছাড়া বড় কয়েকটি কাজ অনেকটা অগোচরেই করে গেছেন।
সিরাজগঞ্জের এ যুবক ইতিমধ্যে সর্বস্তরের মানুষের ভালবাসা পাচ্ছেন। শহরে বেশ জনপ্রিয় মানুষ থাকলেও আশিক আহমেদ এর সুনাম বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। এমন সামাজিক কর্মকান্ডে। তিনি চেয়েছেন সবার কাজের সহযোগী হতে নিজের মত কিছু করে।
তিনি ছাত্রজীবন থেকেই শুরু করেছেন মানবিকতার কাজ। পরিবারকে সাথে নিয়ে চলার এ সময়ে দু’জন মানুষের কথা না বললেই নয়। তারা হচ্ছেন তার মা ও তার স্ত্রী। তবে এরচেয়ে বড় যদি বলা হয়, আশিক আহমেদের সব কাজের প্রধান সহায়ক শক্তি তারা। তিনি শহরের মানবিকতা কাজ করছে নিয়মিত। জেলার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে তাদের কাজ। প্রতিনিয়ত তরুণ-তরুণীরা যুক্ত হচ্ছেন এ প্লাটফর্মে।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠন গত রমজানেই প্রতিদিন ইফতার আর সাহরি করিয়েছে পথের মানুষদের। শহরের আশ্রম,এতিমখানা,মাদ্রাসায় তাদের সহযোগিতা নিয়মিতই যায়। করোনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের খাবার পাঠিয়েছেন। লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের খাদ্য ও পাঁচ হাজার অস্বচ্ছল মানুষের পনেরো দিনের খাবার দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া অক্সিজেন ব্যাংক ও প্লাজমা সহায়তা তো রয়েছেই।
এ পর্যন্ত তারা ছয়জন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের পুরো খরচ বহন করেছেন ফান্ড থেকে। এরমধ্যে ক্যান্সারের ২ জন, হার্টের ২ জন, টিউমার নিয়ে থাকা ২ জন রয়েছেন। সার্জারির দায়িত্বই তারা নিয়েছেন ছয় জনের। এ কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিন মানুষের জীবনের গল্প তার চোখে ভাসে।
আশিক আহমেদ বলেন, মানুষের জীবনের গল্প একেক রকম। নানা গল্প আমার চোখে এসেছে গত ১ বছর ক্লিন সিরাজগঞ্জ গ্রীন সিরাজগঞ্জ মানবিকতার কাজ করতে গিয়ে। স্বপ্ন দেখি আমাদের সিরাজগঞ্জের মানুষের দুঃখগুলো অন্তত আমার পর্যন্ত আসুক। সব মোচন না করতে পারি, জানলে হয়তো চেষ্টা তো করতে পারবো।
নারীর জন্য তারা ফ্রি অ্যাডভোকেসি, তাদের পাশে দাঁড়ানোর আয়োজন আর সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে তাদের সেমিনারের মাধ্যমেও উৎসাহিত করেছেন তারা। তিনি বলেন, ক্লিন সিরাজগঞ্জ গ্রীন সিরাজগঞ্জ মানবিকতার মূল পর্ষদ ২১ জনের হলেও আমাদের সদস্য সংখ্যা মানে স্বেচ্ছাসেবী জেলাজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি। আমরা কাজ করি মানবিক সমাজ গঠনে। আমি স্বপ্ন দেখি, একজনও হাত পাতবে না মানুষের কাছে।
রক্তদানের ক্যাম্পেইনে আমাদের শিরোনাম স্বেচ্ছায় রক্তদান,বাঁচুক মানবপ্রাণ। আমরা এতে প্রতিপাদ্য দিয়েছিলাম, শুভ চেতনার ধমনী কখনো রক্তশূন্য হয় না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছাসেবীদের বোঝাতে পেরেছি, কী লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। যেহেতু নিজেরা অনুদান চাই না। কেউ একদম নিজের ইচ্ছায় দিতে চাইলে, তাকে আমাদের ইভেন্টে এসে নিজহাতে সেবা দিতে বলি, সহায়তা দিতে বলি। তাই ক্লিন সিরাজগঞ্জ গ্রীন সিরাজগঞ্জ মানবিকতা সবার জন্য।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি