যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয়ে বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ে সন্তুষ্ট অনেকে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো নির্বাচনে তার পরাজয়ের বিষয়টি মেনে নেননি কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার নীতির সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষ কর্মকর্তারা বাইডেনের বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিরও সমালোচনা করেছেন। বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো ম্যাস বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির প্রচণ্ড সমালোচনা করে বলেছেন, তার কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। যদিও তিনি জানেন তার এখন চলে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃষ্ট বড় ধরনের সংকট বলতে ‘যুক্তরাষ্ট্রই শ্রেষ্ঠ’ ট্রাম্পের এমন স্বেচ্ছাচারী নীতির কারণে আটলান্টিকের দুপাড়ের সমস্যার কথা বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি অর্থনৈতিক, বাণিজ্য, সামরিক, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই ইউরোপের সঙ্গে পাওনাদারের মতো আচরণ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর প্রথম থেকেই ন্যাটো জোটে মার্কিন কর্মকাণ্ড বা ভূমিকার ধরন কেমন হবে সে ব্যাপারে অগঠনমূলক কথাবার্তা বলতে থাকেন এবং এই জোটের সদস্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের সামরিক খাতে বাজেট বাড়ানোর দাবি জানান। এছাড়া, জোটের জন্য আরো অর্থ দেয়ারও দাবি জানান। এমনকি জার্মানির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেদেশে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের একটা অংশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এতে ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশ ক্ষিপ্ত ছিল।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু যে চীনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে তাই নয় এমনকি ইউরোপের শরীক দেশগুলোর সঙ্গেও তার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত যেমন আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তি, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা, পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, উন্মুক্ত আকাশ চুক্তি প্রভৃতি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইউরোপসহ সারা বিশ্বের নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
আসলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই ওয়াশিংটনের শরীক ইউরোপের দেশগুলোসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখতেন। তিনি বেশ ক’বার জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যঞ্জেলা মার্কেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মার্কেলকে উদ্দেশ্য করে খুবই জঘন্য ভাষায় কথা বলেছেন। ট্রাম্পের এসব আচরণ ও কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই বিশ্বঅঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়ছিল এবং শেষ পর্যন্ত বাইডেনের বিজয়ের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের দুঃশাসনের অবসান ঘটতে চলেছে। বাইডেন বলেছেন তিনি আমেরিকার হারিয়ে যাওয়া সম্মান আবারো ফিরিয়ে আনবেন।
তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন সরকারের যে সাম্রাজ্যবাদী নীতি তাতে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসায় তাতে খুশী হওয়ার কিছু নেই। কেননা ডেমোক্রেট কিংবা রিপাবলিকান যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন বিশ্বব্যাপী ওয়াশিংটনের আধিপত্য বিস্তার এবং নিষেধাজ্ঞা ও অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে দমনের নীতি থেকে তারা সরে আসবে না। বাইডেন ক্ষমতায় আসায় হয়তো এ ক্ষেত্রে শুধু কৌশলে পরিবর্তন ঘটবে কিন্তু মূল নীতি একই থাকবে। – পার্সটুডে
বার্তাবাজার/কে.জে.পি